গোপাল সিং, খোয়াই, ৩০ অক্টোবর || সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া বাতিল এবং দেশের প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সুনিশ্চিত করার দাবিতে শুক্রবার আগরতলায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করল ইন্ডিয়া জোট। আটটি রাজনৈতিক দলের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন জোটের বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। সমাবেশ থেকে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রের শাসক দলের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী, কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার অভিযোগ করেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে সামনে রেখে কেন্দ্রের শাসক দল নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ভোটার তালিকা তৈরির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বিরোধী মনোভাবাপন্ন মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার স্পষ্টভাবে জানান, ১৮ বছর পূর্ণ হওয়া প্রত্যেক নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং প্রকৃত ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। তাঁর বক্তব্যে ভোটাধিকার রক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিই প্রাধান্য পায়।
অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী জাতীয় পতাকা হাতে মিছিল ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীদের উপস্থিতির কথা তুলে ধরে বলেন, সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা এবং নির্বাচনে বিরোধী দলগুলির জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই এই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শর্ত। তাই ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কোনও প্রকৃত ভোটারের অধিকার যাতে ক্ষুণ্ণ না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ ও প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহাও রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, ত্রিপুরায় দুই লক্ষাধিক প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি, সিবিআই ও ইডির মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মণ পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, শাসক দলের স্থানীয় মণ্ডল ও বুথ স্তরের কিছু নেতা পুলিশকর্মীদের সঙ্গে অসম্মানজনক ভাষায় কথা বলেন। অথচ পুলিশের ইউনিফর্মের প্রতি সম্মান জানিয়ে সাধারণ মানুষ তাঁদের স্যালুট করেন। আসন্ন নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের জন্যও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান কংগ্রেস বিধায়ক।
এদিনের সমাবেশ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিও তোলেন জোটের নেতারা। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করে পূর্ববর্তী কাঠামো পুনর্বহালের দাবিতে সরব হন তাঁরা। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখা দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সংবিধানের মর্যাদা রক্ষা, ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখার দাবিকে সামনে রেখে এদিনের কর্মসূচিতে কেন্দ্রের সরকার ও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একযোগে প্রতিবাদ জানায় ইন্ডিয়া জোট। নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট, SIR প্রক্রিয়া ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি আগামী দিনেও রাজনৈতিক আন্দোলনের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
