আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ৩০ অক্টোবর || অল্প বয়সেই অসাধারণ স্মৃতিশক্তি ও শেখার দক্ষতার পরিচয় দিয়ে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নাম তুলে নজির গড়ল আগরতলার খুদে আদিশ্রী চক্রবর্তী। মাত্র ১৮ মাস বয়সে শরীরের ৯টি অঙ্গ, ১৬টি ফুল, ১৫টি পশু, ১৪টি পাখি, ১৬টি সবজি, ১৯টি ফল, ১০টি রং এবং ১০টি দেশের জাতীয় পতাকা শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে সে। ছোট্ট আদিশ্রীর এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি তার পরিবার।
আদিশ্রী চক্রবর্তী আগরতলার হাপানিয়া এলাকার গৌর গোবিন্দ আশ্রম পাড়ার বাসিন্দা। তার বাবা সৌরভ চক্রবর্তী এবং মা সাগরিকা ভট্টাচার্যী। পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ ও মায়ের বিশেষ প্রচেষ্টায় এত অল্প বয়সেই বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছে খুদে আদিশ্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আদিশ্রীর বয়স যখন মাত্র ছয় মাস, তখন থেকেই তার মা সাগরিকা ভট্টাচার্যী তাকে বিভিন্ন রঙের ছবি, পশু-পাখি, ফুল, ফল, সবজি এবং বিভিন্ন দেশের জাতীয় পতাকা দেখিয়ে শেখানোর প্রস্তুতি শুরু করেন। নিয়মিত এই অনুশীলনের মধ্য দিয়েই ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিষয় চিনতে ও শনাক্ত করতে শেখে আদিশ্রী। মায়ের ধৈর্য, একাগ্রতা এবং নিয়মিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছে পরিবার।
জানা গিয়েছে, আদিশ্রীর বয়স ১৬ মাস থাকতেই তার যাবতীয় তথ্য ও প্রয়োজনীয় বিবরণ ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ মাস হওয়ায় সেই বয়স পূর্ণ হওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। গত ২০ সেপ্টেম্বর আদিশ্রীর ১৮ মাস পূর্ণ হয়। এরপর ২২ সেপ্টেম্বর রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের তরফে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সম্প্রতি সেই স্বীকৃতির শংসাপত্র বাড়িতে এসে পৌঁছেছে।
মাত্র দেড় বছর বয়সে এতগুলি বিষয় শনাক্ত করার স্বীকৃতি আদিশ্রীর পরিবারের কাছে নিঃসন্দেহে আনন্দের ও গর্বের। ছোট্ট শিশুর বিকাশে পরিবারের ইতিবাচক ভূমিকা, বিশেষ করে মায়ের নিয়মিত সময় দেওয়া ও শেখানোর প্রচেষ্টা এই সাফল্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক।
আগরতলার এই খুদে প্রতিভার সাফল্যে পরিবারের পাশাপাশি খুশি এলাকাবাসীও। আদিশ্রীর আগামী দিনের বেড়ে ওঠা ও নতুন নতুন বিষয় শেখার যাত্রা আরও আনন্দময় হয়ে উঠুক—এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
