গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ নভেম্বর || ফের মিলে গেল আমাদের তথ্য। গত ‘৭ই অক্টোবর আমরাই তথ্য দিয়ে নিউজে প্রকাশ করেছিলাম কল্যানপুর, সোনাতলা, বনকর ও সিঙিছড়ায় গোপনে বিপুল পরিমাণে নেশাসামগ্রী মজুত করা হচ্ছে। মাষ্টার-মাইন্ডদের গোপন ডেরায় মজুত রয়েছে প্রচুর পরিমাণে অবৈধ নেশা সামগ্রী। এই খবরের ভিত্তিতেই একবার সোনাতলা এলাকায় এরপর সিঙ্গিছড়ায় আসাম রাইফেল ও কাষ্টমসের হাতে ধরা পড়ে প্রচুর এসকফ ও নেশা সামগ্রী। আমাদের সেই তথ্যের নিখুঁত সত্যতা প্রমাণ করে পরবর্তীতে আসাম রাইফেলস, কাস্টমস ও রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন দল একাধিক সফল অভিযান চালিয়েছিল। এবার ঠিক সেই কল্যাণপুর এলাকারই যোগসূত্র ধরে আগরতলা রেল স্টেশনে কোটি কোটি টাকার ফেন্সিডিল উদ্ধারের ঘটনায় এক প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করল ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে ধৃত প্রধান অভিযুক্তের নাম সুব্রত দেব। তার মূল বাড়ি খোয়াই জেলার কল্যাণপুর এলাকায়। আগরতলা রেল স্টেশন ও এর আশেপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার ফেন্সিডিল এবং নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ভিন রাজ্যে পাচার বা স্থানীয়ভাবে মজুত করার কারবারে যুক্ত ছিল। এই চক্রের অন্যতম পান্ডা হিসেবে সুব্রত দেবের নাম উঠে আসে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ক্রাইম ব্রাঞ্চ তাকে পাকড়াও করে। এবার কি ক্রাইম ব্রাঞ্চের লক্ষ্য সোনাতলা, সিঙ্গিছড়া ও বনকর, প্রশ্ন জনমনে।
আমাদের পূর্বের সংবাদে স্পষ্ট তুলে ধরা হয়েছিল যে, খোয়াই জেলার কোন কোন গোপন পয়েন্টে এবং মাস্টারমাইন্ডদের ডেরায় এই সমস্ত নেশাসামগ্রীর বড় বড় চালান মজুত করা হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, স্থানীয় খোয়াই পুলিশ প্রশাসন সেই সমস্ত চাঞ্চল্যকর তথ্যের প্রতি দীর্ঘদিন কোনো কর্ণপাত বা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা সত্ত্বেও আসাম রাইফেলস, কাস্টমস এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চের মতো কেন্দ্রীয় ও বিশেষ তদন্তকারী দলগুলি সঠিক সময়ে তৎপরতা চালিয়ে একের পর এক বড়সড় চোরাচালান চক্রকে ধ্বংস করে চলেছে। এই ঘটনায় ধৃত সুব্রত দেবকে জেরা করে এই নেশা চক্রের সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা উদ্ঘাটনে এখন তল্লাশি চালাচ্ছে ক্রাইম ব্রাঞ্চ। ফেন্সিডিল ও এসকফের বড়ো চালান ত্রিপুরা তথা খোয়াই জেলায় ঠিক কোথায় কোথায় মজুত ছিল এবং কোথায় কোথায় মজুত রাখা হয় তার তথ্য সমৃদ্ধ নিউজ প্রকাশিত হলেও, খোয়াই পুলিশ প্রশাসন তাতে কর্ণপাত না করলেও, আসাম রাইফেল এবং ক্রাইম ব্রাঞ্চ ঠিকই কাজ করে চলছে।
