আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৪ নভেম্বর || তিপ্রা মথার সাংগঠনিক কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন। দলের নতুন কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আট সদস্যের এই নতুন কমিটি ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা ও চর্চা। বিশেষ করে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা কোনও সাংগঠনিক পদে না থাকা এবং রাজ্যের মন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মার নতুন কমিটিতে স্থান না পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দলীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মাকে নতুন কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। তবে সাংগঠনিক পদে না থাকলেও দলের প্রতি তাঁর পরামর্শ ও নির্দেশনা অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে নেতৃত্ব। অর্থাৎ আনুষ্ঠানিক কোনও পদে না থেকেও তিপ্রা মথার রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রদ্যোতের ভূমিকা যে গুরুত্বপূর্ণ থাকবে, তা দলের বার্তায় পরিষ্কার।
নতুন কমিটির অন্যতম উল্লেখযোগ্য সংযোজন বৃষকেতু দেববর্মা। অতীতে বামপন্থী যুব সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং পরবর্তীতে বিজেপির বিধায়ক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া বৃষকেতুর এবার তিপ্রা মথার কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে অন্তর্ভুক্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, নতুন কমিটির তালিকায় নাম নেই রাজ্যের মন্ত্রী তথা দলের বরিষ্ঠ নেতা অনিমেষ দেববর্মার। সাম্প্রতিক সময়ে দলের অভ্যন্তরে তাঁর অবস্থান ও রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। সেই আবহে অনিমেষের অনুপস্থিতি এবং বৃষকেতুর অন্তর্ভুক্তি নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও অনিমেষ দেববর্মাকে নতুন কমিটিতে রাখা হয়নি কেন, সে বিষয়ে দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
ঘোষিত নতুন কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বিকে রাহেলে, জগদীশ দেববর্মা, বৃষকেতু দেববর্মা, রণজিৎ দেববর্মা, পূর্ণচন্দ্র জমাতিয়া, রতীশ ত্রিপুরা, পলদাংশু এবং কেনয়ারাম রিয়াং।
এছাড়াও পদাধিকারবলে তিপ্রা যুব ফেডারেশন ও তিপ্রা উইমেন ফেডারেশনের সভাপতি এবং টিটিএএডিসির মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্যকে আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রীয় ওয়ার্কিং কমিটি অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে।
সব মিলিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিপ্রা মথার সাংগঠনিক ক্ষেত্রে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলেছে। একদিকে পদ ছাড়াই দলের নীতিনির্ধারণে প্রদ্যোতের প্রভাব বজায় রাখার বার্তা, অন্যদিকে অনিমেষ দেববর্মার অনুপস্থিতি এবং বৃষকেতুর নতুন দায়িত্ব—এই তিনটি বিষয়ই এখন রাজনৈতিক আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু। আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই সাংগঠনিক পরিবর্তন কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
