ভিআইপি নিরাপত্তায় চরম পক্ষপাতিত্ব ও দুর্নীতির অভিযোগ, এবার রাষ্ট্রপতির কাছে চিঠি পাঠালেন তিপ্রামথা বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৩ নভেম্বর || ত্রিপুরা পুলিশ প্রশাসনের সিকিউরিটি উইংয়ের কাজকর্ম নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত তুঙ্গে। ইতিপূর্বে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর পর এবার সরাসরি ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর উদ্দেশ্যে বিস্তারিত চিঠি পাঠালেন ২৪-রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের তিপ্রামথা পার্টির হেভিওয়েট বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। পুলিশ দপ্তরের সিকিউরিটি উইংয়ের বিরুদ্ধে চরম পক্ষপাতিত্ব, সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি এবং দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে এই চিঠি দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বিধায়ক অভিযোগ করেছেন যে, সিকিউরিটি উইংয়ের অধীনে কর্মরত পুলিশ কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো বদলি নীতি (ট্রান্সফার পলিসি) কার্যকর নেই। এর ফলে কিছু পুলিশ কর্মী নির্দিষ্ট কিছু ভিআইপি ও ভিভিআইপিদের সুরক্ষায় কোনো বদলি ছাড়াই বছরের পর বছর—এমনকি ৩ থেকে ৮-১০ বছর ধরে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে চলেছেন। পক্ষান্তরে অনেক সৎ ও বঞ্চিত কর্মীকে অত্যন্ত দুর্বিষহ ও দূরবর্তী স্থানে পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। এসপি সিকিউরিটি অমিতাভ পলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও দলীয় স্বার্থে প্রশাসন পরিচালনার অভিযোগ তুলে বিধায়ক জানান যে, তাঁর সঙ্গে কোনো রকম পূর্ব আলোচনা বা তথ্য ছাড়াই তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আধিকারিক (পিএসও) সুকেশ দেববর্মাকে হঠাৎ প্রত্যাহার করা হয়। পরবর্তীতে এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি, বরং তাঁকে মানসিক চাপে রাখার জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের এই অনভিপ্রেত আচরণের প্রতিবাদে গত ২৩শে অক্টোবর বিকেল ৩টায় তিনি তাঁর নিরাপত্তায় থাকা দুটি পিএসও-কে এসপি সিকিউরিটির দপ্তরে ফিরিয়ে দেন এবং তারপর থেকেই তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে রাজ্যে পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচন প্রক্রিয়া চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁর মতো হাই-রিস্ক জোনের একজন বিধায়কের কোনো নিরাপত্তা রক্ষী না থাকায় জীবনঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অতীতে ত্রিপুরার একাধিক বিধায়ক ও মন্ত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনেও তিনি পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো এই চিঠিতে অবিলম্বে এসপি সিকিউরিটি অমিতাভ পলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি ও সাম্প্রদায়িক মানসিকতার অভিযোগ খতিয়ে দেখে উপযুক্ত ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*