ভারতীয় ক্রিকেটে ঠাণ্ডা বিতর্কের ঝড়

plসিরিজে ০-২ পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি বিতর্কও ঢুকে পড়ল ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে৷ হাতে চোট পাওয়া শিখর ধাওয়ানের বদলে বিরাট কোহলিকে আগে ক্রিজে পাঠানো নিয়ে বিতর্কের শুরু৷ আর সেই চোটের জন্য গাব্বার প্র্যাক্টিস উইকেটকেই দুষলেন ধোনি৷ আর এর মাধ্যমে ক্রিকেটারদের মধ্যে এক ধরনের ঠান্ডা বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে বোর্ড আস্থা হারাতে বসেছে ধোনির উপর। কেননা দল ব্যর্থ। অন্যদিকে হেসে ওঠে নি তার ব্যাটও। দ্বিতীয় টেস্টে কোহলি ও ধোনির একই পরিণতি হল।
ভারতীয় গণমাধ্যম এই সময়ের রিপোর্টে বলা হয়, এখানেই শেষ নয়, গাব্বার ব্যবস্থাপনা নিয়েও রীতিমতো বিরক্ত ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট৷ গাব্বা স্টেডিয়ামের ভিতরে কোনও জিম নেই৷ যা নিয়ে ভারতীয় শিবিরে উষ্মা ছিলই৷ কিন্ত শুক্রবার সকালে নেটে প্র্যাক্টিসের সময় শিখর ধাওয়ানের চোট যেন আগুনে ঘৃতাহুতি দিল৷ ধোনি বলে দিলেন, ‘আমি কোনও বিতর্ক তৈরি করতে চাই না৷ কিন্ত্ত এটা বলতে বাধ্য হচ্ছি, এখানকার সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়নো উচিত৷’
ঠিক কী হয়েছিল? ধোনিই জানিয়েছেন, শনিবার ম্যাচের চতুর্থ দিন সকালে নেটে ব্যাট করার সময় হাতের কব্জিতে চোট পান ধাওয়ান৷ প্রথমে বোঝা যায়নি ব্যাপারটা কতটা গুরুতর! কিন্ত্ত ম্যাচ শুরু হওয়ার ঠিক আগে ড্রেসিংরুমে ধাওয়ান জানান, তাঁর হাতে প্রচণ্ড যন্ত্রণা করছে৷ তখন ব্যাটিং করার অবস্থায় নেই৷
যা নিয়ে ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ধোনির স্পষ্ট বক্তব্য, ‘প্র্যাক্টিস উইকেট অসমান ছিল৷ শিখরের পর আমি ব্যাট করতে গিয়ে এটা আমারও মনে হয়েছে৷’ গত কয়েক দিন ধরেই ভারতীয় ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে নতুন প্র্যাক্টিস উইকেট দেওয়ার জন্য মাঠ কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানায়৷ কিন্ত্ত তাদের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এখন পুরোনো উইকেটেই প্র্যাক্টিস করতে হবে৷ অদ্ভুত ব্যাপার হল, এই একই পিচে সকালে দ্বিতীয় টেস্টে বাদ পড়া রায়ান হ্যারিস প্র্যাক্টিস করে গিয়েছেন৷ টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে ধাওয়ানের চোটের কারণ হিসেবে প্র্যাক্টিস পিচের সমস্যার কথা বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে৷
ধাওয়ানের চোট থেকেও সমস্যার জন্ম খোদ ভারত অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির কথাতেই স্পষ্ট৷ অস্ট্রেলিয়ার কাছে দ্বিতীয় টেস্ট ৪ উইকেটে হারের পরই পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে দাঁড়িয়েই ধোনি বলে দিয়েছেন, ‘শিখর ধাওয়ানকে নিয়ে আমাদের ড্রেসিংরুমে একটা সমন্বয়ের অভাব দেখা দিয়েছিল৷ শিখর না বিরাট কে ব্যাট করতে যাবে, তা নিয়ে একটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়৷’
আগের দিনের ৭১-১ স্কোরে দাঁড়িয়ে চতুর্থ দিন ক্রিজে যাওয়ার কথা ছিল ধাওয়ান আর চেতেশ্বর পূজারার৷ কিন্ত্ত ধাওয়ানের আকস্মিক চোটের পর তাঁর জায়গায় কাকে পূজারার সঙ্গে চতুর্থ দিনের শুরুতেই জনসনের সামনে পাঠানো হবে তা নিয়ে ড্রেসিংরুমে রীতিমতো বিভ্রান্তি তৈরি হয়৷ শেষমেশ কোহলিই ব্যাট হাতে শুরু করেন পূজারার সঙ্গে৷
ব্রিসবেনের বাইশ গজে দ্বিতীয় ইনিংসে কোহলির ইনিংস স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ১৩ মিনিট৷ ১১ বল খেলে জনসনের বলে ১ রানে বোল্ড হন৷ আর সেটাই তাঁর টিমের পতনের কারণ বলে পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন ধোনি৷ বলেছেন, ‘হঠাত্‍ নামতে হওয়ায় বিরাট নিজেকে তৈরির জন্য ৫-৭ মিনিট সময় পেয়েছিল৷ সেটাই মনঃসংযোগে ব্যাঘ্যাত ঘটিয়েছে৷’ সঙ্গে যোগ করেছেন, ‘এ ধরনের পরিস্থিতি ড্রেসিংরুমে একটা অস্থিরতা তৈরি করে৷ একটুর জন্য হলেও ড্রেসিংরুমের শান্তি বিঘ্নিত হয়৷ সমস্যার সমাধান করতে আমাদের নিজেদের মধ্যে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলতে হয়, যার জন্য কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছিল৷ ‘
ধোনির এই তত্ত্ব অবশ্য ফুত্‍কারে উড়িয়ে দিচ্ছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা৷ ধোনির ‘অজুহাত’ নিয়ে সবচেয়ে বেশি সরব সুনীল গাভাসকরই৷ ধারাভাষ্য দিতে বসে তাঁর সাফ কথা, ‘এটা হতেই পারে৷ ওপেনাররাও নামার আগে ওই সময়টাই পায়৷ পেশাদার ক্রিকেটে এটাই হবেই৷ এই অজুহাত দেওয়ার কোনও জায়গা নেই৷ কারণ ধাওয়ান যদি প্রথম বলে আউট হয়ে যেত তা হলে মাঠে নামার জন্য বিরাট ওই সময়টাই পেত৷’
ধোনির পক্ষে মৃদু সুর তুলেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ম্যাথু হেডেন, ‘ধোনি যেটা বলছে, সেটার একটা যুক্তি আছে৷ সেরা ব্যাটকে শুরুতে না নামিয়ে রাহানেকেও পাঠানো যেত৷’ তবে সঞ্জয় মঞ্জরেকর পুরোপুরি গাভাসকরের পাশে৷
কিন্ত্ত ধোনি নিজের যুক্তিতে অনড়৷ বলেছেন, ‘আমার মনে হয়, ব্যাপারটা পেশাদারিত্বের সঙ্গে সামলাতে পারিনি৷ ব্যাটসম্যানরা মিনিট ২০-২৫ মিনিট ক্রিজে কাটাতে পারলেই, সেটাই পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার একমাত্র উপায় ছিল৷ কিন্ত্ত আমরা সেটাই করতে পারিনি৷’ সব মিলিয়ে ব্যর্থতার সঙ্গে এ বার বিতর্কও ঢুকে পড়ল ধোনির সংসারে৷

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*