আপডেট প্রতিনিধি, সাব্রুম, ১৪ সেপ্টেম্বর || সৎ-মায়ের অত্যাচারে অতিষ্ট আট বছরের দ্বিতীয় শ্রেনির পড়ূয়া রাজদ্বীপ নাথ। কখনো সুপারি কাটার শরতা, কখনো গরম রড, কখনো লাঠি দিয়ে নির্মমভাবে পাশন্ডিক অত্যাচার হতো তার উপর। ৮ বছরের অবুঝ ছেলেকে দিয়ে বাথরুম, টয়লেট পরিস্কার থেকে শুরু করে ফিল্টারে জল দেওয়ার কাজ , ঘর দোর পরিস্কার সবই কাজ করানো হত। কাজ করতে না চাইলে মারধর করে অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা হত। টিফিন তো দূরে থাক ঠিকভাবে খাবার দাবার দেওয়া হতো না। সকালবেলা স্কুল থেকে খেয়ে আসলে সারাদিন আর খাওয়ার জুটতো না। এমনই এক চাঞ্চল্যকর ভারাক্রান্ত অমানবিক অভিযোগ উঠল সাব্রুম নগর পঞ্চায়েতের ৬নং ওয়ার্ডের জগদীশ নাথের দ্বিতীয়া স্ত্রী বিপুলা নাথের বিরুদ্ধে। জগদীশ দেবনাথ মুখ-বধীর, পেশায় চা-পান দোকানদার। জগদীশ নাথের একমাত্র সন্তান রাজদ্বীপের বয়স যখন চার বছর তখন তার মা মারা যায়। ছোট্ট ছেলেকে দেখভালের জন্য জগদীশ দ্বিতীয় বিয়ে করে বিপুলাকে। বিয়ের মাসখানেক পর থেকে রাজদ্বীপ যেন বোঝা হয়ে দাড়ালো জগদীশ বিপুলার সংসারে। দিনের পর দিন শুরু হয় রাজদ্বীপের উপর অত্যাচার। জগদীশ নাথ কথা বলতে পারে না। সকালবেলা দোকানে চলে যায় ফিরে রাত্রি বেলায়। ছেলেকে নিয়ে তাদের সংসারে অশান্তির কথা আঁচ করতে পেরে রাজদ্বীপকে মনুঘাটে জগদীশের বড় ভাইয়ের বাড়ীতে দিয়ে আসে।
জ্যেঠামশায়ের বাড়ীতে খুব ভালোভাবে চলছিল রাজদ্বীপের পড়া লেখা। জানা যায়, মনুঘাট স্কুলে ভর্তি করানো হয় তাকে। তারপর হঠাৎ করে একদিন তার বাবা এবং মা জেঠামশায়ের বাড়ী থেকে সাব্রুমে নিজের বাড়ীতে নিয়ে আসে। শুরু হয় রাজদ্বীপের উপর নির্মম পাশবিক অত্যাচার। গত কিছুদিন আগে রাত্রিবেলা তাকে প্রচন্ড মারধর করে সারারাত বাড়ীর বাইরে রাখে। মারের চোটে গলায় এবং মাথায় আঘাত পেয়েছে। সকালবেলা পাড়ার লোকেরা দেখতে পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
এই খবর ডিসিএম উত্তম দাস শুনতে পেয়ে সাথে সাথে চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করে। শুক্রবার বিকেলে চাইল্ড লাইনের কর্মকর্তা, ডিসিএম উত্তম দাস বৈঞ্চব এবং সাব্রুম থানার পুলিশ প্রশাসনের সহযোগে রাজদ্বীপকে তার জ্যাঠামশায়ের বাড়ি থেকে জবান বন্দী নেওয়া নেয়। পরে তাকে মেডিক্যাল করে চাইল্ড হোমে নিয়ে যাওয়া হয়। ডিসিএম উত্তম দাস বৈঞ্চবের সহযোগীতায় রাজদ্বীপ তার সৎ-মার অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়ে এক নতূন আশ্রয় পেল বলে জানা যায়।
