মানবাধিকার কর্মীদের অবর্ণনীয় সহযোগিতায় ১৯ বছর পর কথা বলবে মাধুরী

fjগোপাল সিং, খোয়াই, ১৫ নভেম্বর ৷। মাধুরী দেববর্মা। বয়স ১৯। বাবা দিনমজুর। বাড়ি খোয়াই জেলার কল্যাণপুরের গৌরাঙ্গ টিলা এলাকায়। মাধুরী জন্ম থেকেই কথা বলতে পারে না। কেন বলতে পারে না তা নিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া অথবা চিকিৎসা করার কথা ভাবাও মাধুরীর পরিবারের পক্ষে ভাবাও কঠিন। দারিদ্রতা অষ্টপ্রহর মাধুরীর পরিবারের সঙ্গী। এভাবেই মাধুরী কথা না বলতে পারা কে মেনে নিয়ে বড় হয়েছে, ১৯টি বসন্ত অতিক্রম করেছে। সম্প্রতি মাধুরীর এই অবস্থা মানবাধিকার কর্মী অলক দেববর্মার নজরে আসে। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দেখতে পান একটি বোবা মেয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, ডাকলেও উত্তর দিতে পারছে না। পরবর্তী সময়ে অলক দেববর্মা মাধুরীর বাবার সাথে যোগাযোগ করে জানতে চান, মেয়ে যে কথা বলতে পারে না এই নিয়ে কোনো চিকিৎসা হয়েছে কিনা। মাধুরীর বাবা বলে, কোথা থেকে চিকিৎসা করাব? তখন মানবাধিকার কর্মী অলক দেববর্মা মাধুরীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন। প্রথমে মাধুরীর বাবা ও মাধুরী কোন ভাবেই রাজী হচ্ছিল না। ভয়, আশঙ্কা তাছাড়া আগরতলায় কোনদিন আসেনি । যাই হোক প্রতিবেশী স্বজনদের সাথে কথা বলে মাধুরীর বাবা ও মাধুরীকে রাজী করানো গেল। মানবাধিকারকর্মীরা আগরতলায় চিকিৎসক দেখালেন। চিকিৎসক জানালো, এক ঘন্টার অস্ত্রোপচার করলে পরে মাধুরী কথা বলতে পারবে। চিকিৎসার খরচ প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ত্রিপুরা হিউম্যান রাইটস অর্গানিজেশন এর খোয়াই শাখার উদ্যোগে আশিস মুখার্জি ও অলোক দেববর্মারা চিকিৎসার প্রয়োজনীয় খরচ জোগাড় করলেন। পাশাপাশি মানবাধিকারকর্মীরা চাঁদা তুলে দেয় বলে জানা যায়।
গত ১২ই নভেম্বর আগরতলায় চিকিৎসকের চেম্বারে মাধুরীর অস্ত্রোপচার হয়েছে। জিহ্বাকে দাঁত থেকে বিযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। এখন মাধুরী কথা বলা শিখবে শিশুর মত নতুন করে। ডাক্তার বাবু বলেছেন, অচিরেই মাধুরী কথা বলতে পারবে। মাধুরীর চোখে শুধু আনন্দের অশ্রু ধারা। মাধুরীর বাবাও আনন্দে বাঁধনহারা। কথা না বলে শুধুমাত্র অশ্রুধারায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন। এইরকম কত মাধুরী আছে যারা সামান্য চিকিৎসা ও যত্নের অভাবে বিভিন্ন শারীরিক প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়ে এক অবর্ণনীয় জীবন যাপন করে চলছে।
FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*