গোপাল সিং, খোয়াই, ১১ আগস্ট || যে পিতার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যকে পাথেয় করে আজ ছেলের বিত্তের পাহাড়, সেই পিতার মৃত্যুর পর এবার চলে গেলেন মা-ও। কিন্তু যে সন্তানের জন্য মা আজীবন আগলে রেখেছিলেন তাঁর আঁচল, সেই সন্তানের হাতে জুটল না একমুঠো মুখাগ্নি। খোয়াই জেলা হাসপাতালের সামনের সুপরিচিত ‘গৌর-বিষ্ণুপ্রিয়া মেডিকেল হল’-এর মালিক গণেশ সাহার এই চরম ঔদাসীন্য ও অমানবিকতায় আজ শুধু একটি পরিবার নয়, লজ্জিত এবং স্তম্ভিত গোটা খোয়াই।
ঘটনার সূত্রপাত, যখন লালছড়ার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গণেশ সাহার মা, শ্রীমতি বকুল রাণী সাহা। খবর পেয়ে পাড়া-প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। দোকানের কর্মচারী মারফত বিত্তশালী ছেলে গণেশকে মায়ের মৃত্যু সংবাদ দেন, আশা করেছিলেন ছেলে ছুটে আসবে মায়ের শেষ যাত্রায় সামিল হতে। কিন্তু তাঁদের সব অপেক্ষা বৃথা গেল। ছেলে এলেন না। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে লালছড়া এলাকা। পরে স্থানীয় বাঘাযতীন ক্লাবের তরফে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই নক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়। ক্লাবের কর্মকর্তারা ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করে বলেন, “যে স্বর্গীয় পিতা জগদীশ সাহার শ্রমে-ঘামে তৈরি ব্যবসার উপর দাঁড়িয়ে আজ গণেশ সাহার এত প্রতিপত্তি, আগরতলা-কলকাতায় বাড়ি, সেই জগদীশ সাহার সহধর্মিণী আজ ছেলের কাছে এতটাই মূল্যহীন হয়ে গেলেন? যে মা তাঁকে জন্ম দিলেন, তাঁর মুখাগ্নি করার মতো সময় বা ইচ্ছেটুকুও হলো না?”
তাঁদের কথায় ঝরে পড়ছিল একরাশ ধিক্কার আর প্রশ্ন—এই সম্পদ আর প্রতিষ্ঠার দাম কী, যদি তা ন্যূনতম মানবিক কর্তব্যটুকুও ভুলিয়ে দেয়? এই ঘটনা আজ খোয়াইয়ের বিবেককে এক কঠিন প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। বাবার পরিচয়ে পরিচিতি পেয়ে যে ছেলে আজ সমাজের প্রতিষ্ঠিত মুখ, তাঁর কাছেই মায়ের শেষকৃত্যের চেয়েও কি বড় হয়ে গেল পার্থিব ব্যস্ততা? যে সম্পদ মনুষ্যত্বকে সম্মান দিতে শেখায় না, সেই সম্পদ কি তবে এক চিতাভস্মের চেয়েও ভারহীন? এই প্রশ্নই এখন খোয়াইয়ের আকাশে-বাতাসে ভাসছে, আর তার সাথে মিশে আছে একরাশ লজ্জা আর দীর্ঘশ্বাস।
