বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৮ আগস্ট || বাইখোড়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের গাফিলতির কারণে ৯ বছরের এক শিশুর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে। রবিবার রাতে চরকবাই মধ্যপাড়ার বাসিন্দা এক অভিভাবক তাঁর সন্তানকে নিয়ে ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ছুটে আসেন। অভিযোগ, বিষাক্ত কিছুতে কামড় খাওয়ার পর শিশুর শারীরিক অবস্থা দ্রুত খারাপ হচ্ছিল।
সে সময় জরুরি বিভাগে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক রণদীপ ভৌমিক। পরিবারের দাবি, ঘটনাটি জানানো সত্ত্বেও তিনি কেবল তিনটি ইনজেকশন দিয়ে শিশুকে বাড়ি ফেরত পাঠান। প্রাথমিক অবস্থায় শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফারও করা হয়নি।
বাড়ি ফেরার কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুর অবস্থা আরও গুরুতর হলে আবারও বাইখোড়া হাসপাতালে আনা হয়। পরে তাকে শান্তিরবাজার জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে পরীক্ষায় বিষক্রিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়ে। শেষপর্যন্ত জিবি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও শিশুটিকে আর বাঁচানো যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, চিকিৎসকের গাফিলতির পাশাপাশি হাসপাতালের সার্বিক অব্যবস্থাপনা, অস্বচ্ছতা এবং নার্সদের দুর্ব্যবহার রোগীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে। এমনকি সিএমও জ্যোতির্ময় দাস বিলোনিয়া সদর দপ্তরে থাকার পরিবর্তে বাইখোড়া হাসপাতালের কোয়ার্টারে বসবাস করলেও হাসপাতালের ভয়াবহ অব্যবস্থাপনা রোধে কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ ওঠে।
শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে গোটা চরকবাই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ জনতা প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে।
