ত্রিপুরা সরকার ও পতঞ্জলি যোগপীঠের মধ্যে সহযোগিতার সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ ডিসেম্বর || রাজ্যের সার্বিক ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে ত্রিপুরা সরকার ও হরিদ্বারের পতঞ্জলি যোগপীঠ (ট্রাস্ট)-এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হল। মঙ্গলবার টিআইএফটি কনফারেন্স হলে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর করা হয়।
ত্রিপুরা সরকারের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন পিসিসিএফ ও এইচওএফএফ আর. কে. সামাল এবং শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডঃ দীপক কুমার। পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্ট (পিওয়াইটি)-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব আচার্য বালকৃষ্ণ।
ভারতীয় ট্রাস্ট আইনের অধীনে নিবন্ধিত পতঞ্জলি যোগপীঠ (ট্রাস্ট) যোগ, আয়ুর্বেদ, প্রাকৃতিক ও জৈব খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, সুস্থতা, গ্রামীণ ও উপজাতি উন্নয়ন এবং গবেষণার ক্ষেত্রে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। দেশজুড়ে সমন্বিত গ্রামীণ মূল্য শৃঙ্খল, সুস্থতা কেন্দ্র ও গবেষণা পরিকাঠামো গড়ে তোলায় ট্রাস্টটির উল্লেখযোগ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তারা ত্রিপুরার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
রাজ্যের বৃহত্তর বিনিয়োগ প্রচারের লক্ষ্যকে সামনে রেখে ত্রিপুরা সরকার এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বাঁশ ও আগর মূল্য শৃঙ্খল, আয়ুষ ও সুস্থতা, দক্ষতা উন্নয়ন, উপজাতি কল্যাণ, কৃষি প্রযুক্তি, পর্যটন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং গ্রামীণ জীবিকা নির্বাহের মতো একাধিক ক্ষেত্রে যৌথভাবে কাজ করবে।
এছাড়াও, ত্রিপুরা সরকারের বন বিভাগ ও পতঞ্জলি যোগপীঠ ট্রাস্টের মধ্যে “বন ও কৃষি-বন মূল্য শৃঙ্খল উন্নয়ন” সংক্রান্ত আরেকটি পৃথক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আগর কাঠের উপর গবেষণা, বন সম্পদের ডিজিটাইজেশন ও ম্যাপিং, আন্তর্জাতিক বিপণন চ্যানেল উন্নয়ন, বনজ পণ্যের মূল্য সংযোজন, জীববৈচিত্র্য গবেষণা কেন্দ্র, বীজ ব্যাংক এবং সুস্থতা-ভিত্তিক পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই সহযোগিতার ফলে রাজ্যে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সুফল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। আগর কাঠ, বাঁশ, ঔষধি গাছ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ক্ষেত্রে মূল্য শৃঙ্খল মজবুত হবে, বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়বে এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি কৃষি, প্রক্রিয়াকরণ, পর্যটন ও সুস্থতা খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
সমঝোতা স্মারকটি পর্যটন বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, আয়ুষ-ভিত্তিক সুস্থতা পরিষেবা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও সহায়ক হবে বলে প্রশাসনের আশাবাদ। সামগ্রিকভাবে এই উদ্যোগ বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে এবং ত্রিপুরাকে একটি উদীয়মান, বহুমুখী উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*