বীরচন্দ্র মনু দক্ষিণ জোনাল অফিসে চরম অব্যবস্থা, কর্মী স্বল্পতায় ব্যাহত উন্নয়ন

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১৯ জানুয়ারি || বীরচন্দ্র মনু দক্ষিণ জোনাল অফিস বর্তমানে চরম অবহেলা ও তীব্র স্টাফ স্বল্পতার শিকার। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। জানা গেছে, চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীসহ মাত্র সাত থেকে আট জন স্টাফের ওপর ভর করেই চলছে পুরো অফিসের কাজ।
সূত্র মারফত জানা যায়, খুমুলুং সদর দপ্তরে পর্যাপ্ত স্টাফ থাকা সত্ত্বেও নেতা-মন্ত্রীর অনুগামী হয়ে অনেকেই সদর কার্যালয়েই অবস্থান করছেন। ফলে বীরচন্দ্র মনু দক্ষিণ জোনাল অফিসে বর্তমানে নেই কোনো ইঞ্জিনিয়ার, নেই জেডিও—এভাবেই চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। অভিযোগ উঠেছে, যাঁরা রয়েছেন, তাঁরাও নিয়মিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থাকেন না।
স্টাফ স্বল্পতার কারণে একদিকে যেমন উন্নয়নের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তেমনই অফিসের একাধিক কক্ষ দিনের পর দিন তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। তিপ্রা মথা পরিচালিত এডিসি সরকারের প্রশাসনিক দৃষ্টিহীনতার কারণেই বীরচন্দ্র মনু দক্ষিণ জোনাল অফিসের এই বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।
খুমুলুং সদর দপ্তর ও এডিসি প্রশাসনের শীর্ষ নেতৃত্ব কার্যত ‘শীতঘুমে’ আচ্ছন্ন বলেও মন্তব্য করছেন স্থানীয় শুভবুদ্ধিসম্পন্ন জনজাতি সাধারণ মানুষ। তাঁদের অভিযোগ, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের স্বপ্ন দেখিয়ে জনজাতিদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে এবং পরিকল্পিতভাবে প্রশাসনিক কাঠামোকে বিকল করে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
আরও অভিযোগ, গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ডের প্রচারের আড়ালে এডিসি সরকারের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে গরিব, অসহায় ও সহজ-সরল জনজাতি মানুষকে। তিপ্রা মথা দলের এমডিসি ও কার্যনির্বাহী সদস্যরা নিজেদের এলাকায় বিভিন্ন সরকারি বেনিফিশিয়ারি নিয়ে গেলেও বহু প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মানুষ সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।
এই ধরনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলে এডিসি এলাকার জনজাতি অংশের মানুষের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে। সাধারণ জনগণের প্রশ্ন—এই অবস্থার জন্যই কি তিপ্রা মথা দলকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল?
সামনেই এডিসি নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মন ও এডিসি প্রশাসন আদৌ কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*