বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১২ আগস্ট || দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার শান্তিরবাজার মহকুমার অন্তর্গত সাঁচীরামবাড়ীস্থিত নবম বাহিনী টি এস আর ক্যাম্পের হেডকোয়ার্টারে মঙ্গলবার বনদপ্তরের উদ্যোগে মহকুমাভিত্তিক বনমহোৎসব অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং বনভূমি সংরক্ষণের বার্তা নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রশাসন, বনদপ্তর এবং জনপ্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের সূচনা করেন জোলাইবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক তথা মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। তিনি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শান্তিরবাজার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, জোলাইবাড়ী ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান তাপস দত্ত, ভাইস চেয়ারম্যান কেশব চৌধুরী, বিএসসি-র চেয়ারম্যান অশোক মগ, দক্ষিণ জেলার সভাধিপতি দীপক দত্ত, দক্ষিণ জেলার বন আধিকারিক কমল ভৌমিক, বিশিষ্ট সমাজসেবী সুজিত দত্ত, মহকুমার বন আধিকারিক নবারুণ চন্দ্র দে, কাকুলিয়া ফরেস্ট রেঞ্জারসহ বনদপ্তরের বিভিন্ন বিটের আধিকারিক ও কর্মীরা।
বনভূমি ধ্বংসের ক্ষতিকর প্রভাব এবং বন সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে অনুষ্ঠানে একটি সচেতনতামূলক নাটকও পরিবেশিত হয়। নাটকের মাধ্যমে বনভূমি ধ্বংস না করে তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব শুধু বনদপ্তরের কর্মীদের নয়, সমাজের প্রতিটি মানুষের। গাছ মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করে বনভূমি সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের কয়েকটি রাজ্যে বনভূমি সংরক্ষণের জন্য কঠোর আইন রয়েছে। বনভূমি ধ্বংসের ঘটনায় কঠোর শাস্তি ও জরিমানার ব্যবস্থার পাশাপাশি বন ধ্বংসের ঘটনা সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তিদের পুরস্কৃত করার ব্যবস্থাও রয়েছে। এ ধরনের আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে বন ধ্বংসকারীদের মধ্যে ভয় তৈরি হবে এবং বন রক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন উপস্থিত অতিথিরা। পরে নবম বাহিনী টি এস আর-এর হেডকোয়ার্টার চত্বরে অতিথিবৃন্দ বৃক্ষরোপণ করেন।
অনুষ্ঠানের বিভিন্ন দিক নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া। বন সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ রক্ষায় আগামী দিনেও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে।
