আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৫ আগস্ট || দেশের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শনিবার আগরতলার আসাম রাইফেলস ময়দানে রাজ্যভিত্তিক মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। পতাকা উত্তোলনের পর তিনি সম্মিলিত বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন। এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক জি. কে. রাও।
স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানে একাধিক প্ল্যাটুন কুচকাওয়াজে অংশ নেয়। ত্রিপুরা পুলিশ, টি.এস.আর, আসাম রাইফেলস, সিভিল ডিফেন্স, এনসিসি, এনএসএস-সহ বিভিন্ন বাহিনী ও সংগঠনের প্ল্যাটুন শৃঙ্খলাবদ্ধ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি করে।
অনুষ্ঠানে রাজ্যবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং ত্রিপুরা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। লিখিত ভাষণে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর গত কয়েক বছরে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, চার ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি জিডিপি নিয়ে ভারত বর্তমানে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে গত ১২ বছর ধরে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস এবং সবকা প্রয়াস’-এর মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে দেশ এগিয়ে চলেছে। দরিদ্র, কৃষক, মহিলা ও যুব সমাজের কল্যাণে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
জনকল্যাণমুখী শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের ২৫ কোটিরও বেশি মানুষকে দারিদ্র্যসীমার উপরে তুলে আনা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। একইসঙ্গে রাজ্যের উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তিনি তুলে ধরেন।
স্বাধীনতা দিবসের এই অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল পুলিশ পদক প্রদান। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে যোগ্য পুলিশ আধিকারিক ও কর্মীদের হাতে পদক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও মন্ত্রিসভার বিভিন্ন সদস্য, জনপ্রতিনিধি, সরকারি আধিকারিক এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা দেশাত্মবোধক নৃত্য ও সংগীত পরিবেশন করে। তাঁদের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান আরও বর্ণময় হয়ে ওঠে। জাতীয় পতাকার মর্যাদা, দেশপ্রেম ও ঐক্যের বার্তা নিয়ে সম্পন্ন হয় এদিনের ৮০তম স্বাধীনতা দিবসের মূল অনুষ্ঠান।
