৭২ ঘণ্টার অবরোধ প্রত্যাহার, স্বাভাবিকের পথে সড়ক-রেল যোগাযোগ, ১১ দফা দাবি ও ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ নিয়ে উত্তপ্ত ত্রিপুরা, দুদিনের অবরোধে চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৫ সেপ্টেম্বর || ১১ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন বৈরীদের জন্য ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ চালুর দাবিতে আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন NLFT ও ATTF গোষ্ঠীগুলোর ডাকা ৭২ ঘণ্টার সড়ক ও রেল অবরোধে শুক্রবার থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকা। দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় সড়ক ও রেলপথ অবরোধের জেরে ব্যাহত হয় রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। তবে দুদিন ধরে অবরোধ চলার পর অবশেষে সন্ধ্যায় কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয় আন্দোলনকারীরা। এর ফলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিকের পথে ফিরতে শুরু করেছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ।
অবরোধের জেরে আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়কের খোয়াই চৌমুহনী, বড়মুড়া পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে। আটকে পড়ে বহু পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ছোট যানবাহন। চন্দ্রপুর আইএসবিটি-সহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রীদের অপেক্ষায় থাকতে হয়। পণ্য পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় পরিবহন শ্রমিক, দিনমজুর এবং দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের একাংশও সমস্যায় পড়েন।
একইসঙ্গে রেলপথ অবরোধের কারণে ট্রেন চলাচলেও প্রভাব পড়ে। দূরদূরান্তের যাত্রী ও নিত্যযাত্রীদের মধ্যে দেখা দেয় চরম দুর্ভোগ। গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বারবার ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়।
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আত্মসমর্পণকারী প্রাক্তন বৈরীদের পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট চুক্তির ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ দ্রুত চালু করতে হবে। দাবিগুলির বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অবস্থান এবং প্যাকেজের অর্থ কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে, তা নিয়েও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি ওঠে।
অবরোধ চলাকালীন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বড়মুড়া, খোয়াই চৌমুহনীসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় ব্যাপক পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলস (TSR) বাহিনী মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়।
এদিকে, আন্দোলনস্থল থেকে এক প্রাক্তন বৈরী নেতার বক্তব্যকে ঘিরেও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে হুঁশিয়ারি দেন। তবে পরিস্থিতি যাতে আর উত্তপ্ত না হয়, সেদিকে নজর রেখে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
দুদিনের অবরোধে জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছানোর পর অবশেষে সন্ধ্যায় আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা আসে। অবরোধ উঠে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে ১১ দফা দাবি ও ২৫০ কোটি টাকার প্যাকেজ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে বিভিন্ন মহলের।
সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি, আলোচনার মাধ্যমে দাবিদাওয়ার সমাধান করা হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন রাজ্যবাসীর।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*