ড. ইয়ুমরি তাইপোডিয়া (কলামিস্ট), কোহিমা, ২০ অক্টোবর || খ্রিস্টীয় বিশ্বাস, মিশনারি কার্যক্রম, শিক্ষা ও সমাজসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে প্রয়াত হলেন রেভারেন্ড বেলিউ শুয়া। ১৯২৮ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণকারী এই বিশিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর, ৯৮ বছর বয়সে কোহিমায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ক্রিশ্চিয়ান রিভাইভাল চার্চের (CRC) প্রথম মহিলা হিসেবে অভিষিক্ত হওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। নাগাল্যান্ডের পাশাপাশি অরুণাচল প্রদেশে খ্রিস্টীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলনের প্রসারেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তাঁর জীবন ছিল বিশ্বাস, অধ্যবসায়, সাহস এবং ঈশ্বরের প্রতি গভীর আনুগত্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
লহুসুওহিয়ে শুয়া ও জেনো ডোলি শুয়ার দশ সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসেবে মেরিয়েমা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বেলিউ শুয়া। তাঁর পরিবার এই অঞ্চলের খ্রিস্টীয় ইতিহাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিল। কথিত আছে, তাঁর মাতামহ খোনোমা গ্রামের দ্বিতীয় ব্যক্তি ছিলেন, যিনি খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর মা ছিলেন নাগা জাতীয়তাবাদী নেতা আংগামি জাপু ফিজোর জ্যেষ্ঠা বোন। ফলে শৈশব থেকেই তিনি এমন এক পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশে বেড়ে ওঠেন, যা তাঁর পরবর্তী জীবনের বিশ্বাস, মূল্যবোধ ও কর্মধারাকে প্রভাবিত করেছিল।
শিক্ষাজীবনে অসামান্য কৃতিত্ব
রেভারেন্ড বেলিউ শুয়ার শিক্ষাজীবন ছিল অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় ও উল্লেখযোগ্য। তিনি কোহিমার মিশন স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তী সময়ে গোলাঘাটের মিশন স্কুল, কোহিমা সরকারি উচ্চবিদ্যালয় এবং গুয়াহাটির কটন কলেজে পড়াশোনা করেন। এরপর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে স্নাতক স্তরের প্রথম দুই বছরের পড়াশোনা সম্পন্ন করে নেপালের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ে শেষ বর্ষের পড়াশোনা শেষ করেন।
শুধু সাধারণ শিক্ষাই নয়, বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর জ্ঞান অর্জনের প্রতিও তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। তিনি কলকাতার ইন্টারন্যাশনাল মন্টেসরি অ্যাসোসিয়েশন থেকে ডিপ্লোমা অর্জন করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার উইলিয়াম কেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষাবিষয়ক একটি পার্সপেকটিভ কোর্স সম্পন্ন করেন এবং ভুবনেশ্বরের উৎকল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষাবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি লস অ্যাঞ্জেলেস বিশ্ববিদ্যালয়ে ধর্মতত্ত্বে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের জন্য অধ্যয়ন করেন এবং উরা একাডেমি থেকে টেনিডিয়ে ভাষায় মাস্টার অব আর্টস ডিগ্রি লাভ করেন।
তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা প্রমাণ করে, মানুষের জীবনে শিক্ষা, জ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার সমন্বয় ঘটানোর প্রতি তিনি আজীবন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন।
আধ্যাত্মিক জীবন ও খ্রিস্টীয় পরিচর্যার পথে যাত্রা
১৯৪৬ সালে পবিত্র আত্মায় পরিপূর্ণ হওয়ার অভিজ্ঞতাকে রেভারেন্ড শুয়া তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এই অভিজ্ঞতার পর তাঁর জীবন ক্রমশ খ্রিস্টীয় পরিচর্যা ও মিশনারি কার্যক্রমের প্রতি নিবেদিত হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত স্বীকৃতি বা পার্থিব জনপ্রিয়তার পরিবর্তে বিশ্বাস ও সেবাকে তিনি জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।
১৯৭৮ সালে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড মিশন কনফারেন্সে তিনি অভিষিক্ত হন। প্রচলিত বিবরণ অনুযায়ী, ক্রিশ্চিয়ান রিভাইভাল চার্চের প্রথম মহিলা হিসেবে তাঁর এই অভিষেক খ্রিস্টীয় পরিচর্যায় নারীদের অংশগ্রহণের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তৎকালীন সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তাঁর এই অগ্রযাত্রা পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
নিজের ধর্মীয় বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ডের কারণে তাঁকে জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণ অনুযায়ী, তাঁকে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করতে হয়। ১৯৫৬ সালে এ. জেড. ফিজোর সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটেও তিনি পুনরায় কারারুদ্ধ হয়েছিলেন বলে জানা যায়। কোহিমা, নগাঁও ও গুয়াহাটিতে কারাবাসের বিভিন্ন সময়ে তিনি বাইবেলের একাধিক অংশ অনুবাদ করেন। প্রতিকূল পরিস্থিতিও তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঈশ্বরের বাণীর প্রতি অঙ্গীকারকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
অরুণাচল প্রদেশে খ্রিস্টীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
রেভারেন্ড বেলিউ শুয়ার জীবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় অরুণাচল প্রদেশে খ্রিস্টীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলনের প্রসারের সঙ্গে যুক্ত। কয়েকজন সহবিশ্বাসী ও মিশনারি বন্ধুর সঙ্গে তিনি এই রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে আধ্যাত্মিক জাগরণ সৃষ্টির লক্ষ্যে কাজ করেন।
তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের স্মৃতিচারণ অনুযায়ী, আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে একটি দল ঈশ্বরের নির্দেশনা ও আধ্যাত্মিক শক্তি লাভের আশায় বনের মধ্যে টানা তিন দিন উপবাস ও প্রার্থনা করেছিল। তাঁদের এই উদ্যোগ পরবর্তী সময়ে অরুণাচল প্রদেশে ক্রিশ্চিয়ান রিভাইভাল চার্চ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করতে সাহায্য করে।
তাঁর মিশনারি কার্যক্রমের পথ অবশ্য মসৃণ ছিল না। অরুণাচল প্রদেশে সুসমাচার প্রচারের সময় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেছিল বলে বিভিন্ন বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বিরোধিতা ও প্রতিকূলতার মুখেও তিনি তাঁর পরিচর্যা অব্যাহত রাখেন। সাহস, অধ্যবসায় এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ছিল তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁর সফর মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিল। লেখকের ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে, জিপুতে মিস বেলিউ শুয়া এবং গোয়া থেকে আসা মিশনারি মিস রোজের সফরকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যেত। তাঁদের পরিচর্যার মাধ্যমে ঈশ্বরের আশ্চর্য কাজ ও অলৌকিক ঘটনার প্রত্যাশায় বিশ্বাসীরা একত্রিত হতেন। সিজিতে, যেখানে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে খ্রিস্টধর্মের প্রসার ঘটেছিল, সেখানেও পরিবার ও গ্রামজুড়ে আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা এবং প্রত্যাশার পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।
এই অভিজ্ঞতাগুলি অরুণাচল খ্রিস্টীয় প্রেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রটি রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। রেভারেন্ড শুয়া নিয়মিতভাবে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ করতেন, ধর্মীয় বাণী প্রচার করতেন এবং বিশ্বাসীদের উৎসাহিত করতেন।
হরাহাপা প্রেয়ার সেন্টারে স্মরণীয় অভিজ্ঞতা
রেভারেন্ড বেলিউ শুয়ার সঙ্গে লেখকের স্মৃতিতে বিশেষভাবে জড়িয়ে রয়েছে হরাহাপা প্রেয়ার সেন্টারের একটি অভিজ্ঞতা। হাউস অব প্রেয়ার ফর অল নেশনস-এ ৪০ দিনের উপবাসে থাকার সময় লেখক তাঁর ধর্মীয় বাণী শোনার সুযোগ পান।
সেই সময় রেভারেন্ড শুয়া বলেছিলেন, দুবার পৃথিবী প্রদক্ষিণ করেও হরাহাপা প্রেয়ার সেন্টারে পেন্টেকস্ট দিবসের উদ্যাপনে পবিত্র আত্মার যে শক্তিশালী প্রকাশ তিনি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তেমন অভিজ্ঞতা অন্য কোথাও পাননি।
অরুণাচল প্রদেশে খ্রিস্টধর্মের বিকাশের প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বাসীদের আত্মসমালোচনা, পাপ স্বীকার, অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে প্রার্থনা এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ প্রার্থনার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছিল এই বিশ্বাস যে, প্রকৃত আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ শুরু হয় অনুতাপ, আন্তরিক প্রার্থনা এবং ঈশ্বরের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতার মধ্য দিয়ে।
মিশনারি জীবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতাও তিনি শ্রোতাদের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের এক স্থানে রাতে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় এক সহনাগা মহিলা মিশনারির সঙ্গে তাঁর বিপদের মুখোমুখি হওয়ার একটি ঘটনা তিনি বর্ণনা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুজন পুরুষ তাঁদের ধরে ফেলার চেষ্টা করলে তাঁরা চিৎকার করে প্রভুর প্রশংসা করেন। এরপর ওই ব্যক্তিরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। রেভারেন্ড শুয়া এই অভিজ্ঞতাকে ঈশ্বরের সুরক্ষার প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও আস্থার দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছিলেন।
আন্তর্জাতিক মিশন ও বিশ্বাসের প্রতি অবিচল আনুগত্য
রেভারেন্ড শুয়া তাঁর বক্তব্যে বারবার পবিত্র আত্মার নির্দেশনার প্রতি আনুগত্যের গুরুত্ব তুলে ধরতেন। একবার তিনি দাবি করেছিলেন, আধ্যাত্মিক নির্দেশনা অনুভব করে নিউ টেস্টামেন্টের দুটি ব্যাগভর্তি বাইবেল নিয়ে চীন সফরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, বিমানবন্দরে ব্যাপক তল্লাশি সত্ত্বেও তিনি নিরাপদে একটি গির্জায় পৌঁছাতে সক্ষম হন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিশন সম্মেলনেও তিনি অংশগ্রহণ করেন। এসব সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপাসনা পরিচালনা করতেন এবং ধর্মীয় বাণী প্রচার করতেন। নিজের পালা এলে তিনি আরেকজন নাগা মহিলা মিশনারির সঙ্গে ক্রিশ্চিয়ান রিভাইভাল চার্চের রীতিতে সমবেত উপাসনা পরিচালনা করেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা বিভিন্ন সংস্কৃতি ও দেশের মানুষের সামনে নিজের বিশ্বাস তুলে ধরার সাহস ও আত্মবিশ্বাসের পরিচয় বহন করে।
তাঁর আন্তর্জাতিক সফরের তালিকাও ছিল দীর্ঘ। ইজরায়েলে তিনি একাধিকবার সফর করেন এবং এগারোবার জেরুজালেমে তীর্থযাত্রা করেছিলেন বলে জানা যায়। এ ছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, মিশর, রাশিয়া, চীন, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, মিয়ানমার, নেপাল ও ভুটানসহ বিভিন্ন দেশ সফর করেন। তাঁর জীবনীসংক্রান্ত বিবরণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের অভিষেক উপলক্ষে আয়োজিত একটি প্রাতরাশ অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সমাজসেবা ও সম্মাননা
ধর্মীয় পরিচর্যার পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও রেভারেন্ড শুয়ার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি নাগাল্যান্ড স্টেট ভারত স্কাউটস অ্যান্ড গাইডসের আজীবন সদস্য ও সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সমাজ ও মানুষের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৭ সালের ১১ জুলাই নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ড. এ. পি. জে. আবদুল কালামের হাত থেকে তিনি সিলভার স্টার সম্মাননা লাভ করেন।
তাঁর এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্বের স্বীকৃতি ছিল না; বরং শিক্ষা, ধর্মীয় পরিচর্যা ও সমাজসেবার মাধ্যমে মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করার দীর্ঘ প্রচেষ্টারও স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রজন্মের পর প্রজন্মে বেঁচে থাকবে তাঁর উত্তরাধিকার
রেভারেন্ড বেলিউ শুয়ার শেষকৃত্যের অনুষ্ঠান কোহিমার উরা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়। পরে শনিবার বিকেলে মিশন কম্পাউন্ডে তাঁর নিজ বাসভবনে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
তাঁর প্রয়াণের মধ্য দিয়ে এক দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল জীবনের অবসান ঘটলেও তাঁর কর্ম ও আদর্শের প্রভাব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বেঁচে থাকবে। তিনি শুধু একজন অগ্রণী অভিষিক্ত নারী, শিক্ষাবিদ কিংবা মিশনারি ছিলেন না; তিনি ছিলেন এমন এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব, যাঁর কর্মজীবন নাগাল্যান্ডের সীমানা অতিক্রম করে অরুণাচল প্রদেশসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিল।
বিশেষত অরুণাচল প্রদেশে খ্রিস্টীয় পুনর্জাগরণ আন্দোলনের ইতিহাসে তাঁর অবদান বহু বিশ্বাসীর কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। প্রার্থনা, ধর্মীয় বিশ্বাস, শিক্ষা ও সেবার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে আধ্যাত্মিক চেতনা জাগিয়ে তোলার যে প্রচেষ্টা তিনি চালিয়েছিলেন, তা তাঁর জীবনের অন্যতম মূল্যবান উত্তরাধিকার।
রেভারেন্ড বেলিউ শুয়ার জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বাসের সঙ্গে সাহস, আনুগত্য, অধ্যবসায় এবং মানবসেবার সমন্বয় ঘটলে তা সমাজ ও মানুষের জীবনে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি পার্থিব জীবন থেকে বিদায় নিয়েছেন, কিন্তু তাঁর জীবনসংগ্রাম, আদর্শ এবং আধ্যাত্মিকতার বীজ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে যাবে।
