আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০২ এপ্রিল || রাজ্য সরকারের পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর শনিবার প্রথমবার রাজধানী আগরতলার প্যালেস কম্পাউন্ডস্থিত শ্বেতমহলে ত্রিপুরা পর্যটন উন্নয়ন নিগম লিমিটেড কর্পোরেশনের অধিকর্তার কার্যালয়ের কনফারেন্স হল ঘরে পর্যটন দপ্তরের সকল স্তরের কর্মচারী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা বৈঠকে মিলিত হয় রাজ্যের পর্যটন দপ্তরের মন্ত্রী সুশান্ত চৌধূরী। এই পর্যালোচনা বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন দপ্তরের সচিব উত্তম কুমার চাকমা, অধিকর্তা তপন কুমার দাস সহ অন্যান্য আধিকারিকেরা।
এদিন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধূরী বলেন, মিশন মোডে আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন আমাদের লক্ষ্য। যে কোনো দপ্তরের সকল স্তরের কর্মচারী ও সমস্ত অংশীদারদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমেই কোনো কাজের যথাযথ ফলাফল পাওয়া যায়। তিনি বলেন, আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিতে নির্দিষ্ট গন্ডীর বাইরে বেরিয়ে চিন্তা করতে হবে ও সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, পর্যটন ক্ষেত্রগুলির বিকাশের মাধ্যমে আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের প্রতিটি আকর্ষণীয় পর্যটন ক্ষেত্রগুলি আমাদের নিজেদের রাজস্ব অর্জনে মডেল হিসেবে গড়ে তুলে আমাদের আত্মনির্ভর করতে পারে। আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটন কেবলমাত্র উচ্চ আয়ের সঙ্গে যুক্ত কোনো পোশাকী শব্দ নয়। আমাদের রাজ্যের আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বিভিন্ন ধরনের সুবিধা বাড়লে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে এবং সেইসঙ্গে যুক্ত বাণিজ্যও বৃদ্ধি পাবে। পর্যটকের সংখ্যার বৃদ্ধি মানে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়া। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় আমাদের সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর রাজ্যের পর্যটন ক্ষেত্রগুলির বিকাশে আমাদের সরকার আন্তরিকতার সাথে কাজ করে চলেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের রাজ্যের গ্রামগুলিও পর্যটনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে। উন্নত পরিকাঠামোর জন্য আমাদের প্রান্তিক গ্রামগুলি পর্যটন মানচিত্রে উঠে আসছে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের সংখ্যাও ক্রমবর্ধমান। আমাদের ত্রিপুরা রাজ্যের পর্যটন কেন্দ্রগুলির প্রতি দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আরও বেশি সংখ্যায় আকর্ষিত করতে আমাদের বিশেষ কৌশল তৈরি করতে হবে। ধর্মীয় স্থানগুলিকে নতুন করে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র করে তুলতে হবে।
এদিন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধূরী আরো বলেন, নাগরিক সুবিধা, ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভালো হোটেল এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর উন্নতি হলে ত্রিপুরায় পর্যটন ক্ষেত্র ক্রমশ প্রসারিত হবে। তাই রাজ্যের পর্যটনবিভাগকে চাঙ্গা করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কিছু অন্যরকমের ভাবনা নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভেবে এগিয়ে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে আহ্বান জানান তিনি।
