আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ আগস্ট || বিদ্যুতের বর্ধিত মাসুল নিয়ে রাজ্যের সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড়সড় স্বস্তির ঘোষণা করল ত্রিপুরা সরকার। সম্প্রতি বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির ফলে গ্রাহকদের যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করার কথা ছিল, তার ১০০ শতাংশ ভর্তুকি হিসেবে রাজ্য সরকার বহন করবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী রতন লাল নাথ। সরকারের এই সিদ্ধান্তে রাজ্যের প্রায় ১০ লক্ষ বিদ্যুৎ গ্রাহক উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার মহাকরণে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকার বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখার চেষ্টা করলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ট্যারিফ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হয়েছে।
তবে বর্ধিত মাসুলের সরাসরি প্রভাব যাতে সাধারণ গ্রাহকদের উপর না পড়ে, সেদিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে রাজ্য সরকার। সেই লক্ষ্যেই অতিরিক্ত মাসুলের সম্পূর্ণ অর্থ ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে ট্যারিফ বৃদ্ধির কারণে গ্রাহকদের যে বাড়তি অর্থ গুনতে হতো, তা সরকারই বহন করবে।
মন্ত্রী জানান, এই ১০০ শতাংশ ভর্তুকি প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৭৭.৫৭ কোটি টাকা ব্যয় হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে আরও ১১৭.১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য সাধারণ মানুষের উপর আর্থিক চাপ না বাড়িয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবার মান আরও উন্নত করা।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিদ্যুৎ মাসুল বৃদ্ধির পূর্ববর্তী পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন রতন লাল নাথ। তাঁর দাবি, ২০১০-১১ থেকে ২০১৭-১৮ সালের মধ্যে রাজ্যে বিদ্যুতের দাম প্রায় ১১৬.০৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলে গত আট বছরে মাসুল বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ২০২০-২১ সালেও গ্রাহকদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছিল বলে জানান মন্ত্রী।
এদিকে স্মার্ট মিটার ও বিদ্যুৎ বিলের বিষয়কে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে সরকারের নতুন ভর্তুকি ঘোষণাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলির ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বাড়তি আর্থিক চাপ কমাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে গ্রাহকদের নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পাশাপাশি বিদ্যুতের অপচয় রোধ এবং অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার বন্ধে দপ্তরকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। সরকারের এই উদ্যোগের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর রাখতে গ্রাহকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার উপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে বর্ধিত বিদ্যুৎ মাসুল নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি আর্থিক বোঝা না চাপিয়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের এই ভর্তুকি নীতিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
