আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৮ ডিসেম্বর || জননেতা সুরজিৎ দত্তের প্রয়ানে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে গিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বলেন, স্বর্গীয় সুরজিৎ দত্ত (সুনু দা) শুধু একজন বিধায়কই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সবার খুব আপনজন। প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক পথচলায় তাঁর গুণমুগ্ধদের সংখ্যা অগনিত।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক বলেন, যার দরজা চিরদিন সাধারন মানুষের জন্য খোলা থাকতো, তিনি চির নিদ্রায় চলে গেছেন। একজন জননেতা কি রকম হতে হয় তা সুনু দা প্রমাণ করে গেছেন।
বুধবার ওনার মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে ছুটে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। রাজ্যের বাইরে থাকায় তিনি রাজ্যে আসতে পারেন নি।
প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য বলেন, বিধায়ক সুরজিৎ দত্তর প্রয়াণে ত্রিপুরা রাজ্যের রাজনৈতিক জগতের একটা অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেছে।
মন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, জননেতা, প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সাত বারের বিধায়ক প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মত বিধায়ক রাজ্যে বিরল। একজন জনপ্রতিনিধি কেমন হওয়া উচিত তা সুরজিৎ দত্তকে দেখলে বোঝা যেত। তিনি রামনগরবাসীর কাছে চিরকাল সুনু’দা নামে পরিচিত ছিলেন। তাঁর প্ৰায়ণে নক্ষত্রপতন ঘটলো রাজ্যের সংসদীয় রাজনীতির।
সিপিআই(এম) ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্তর যথেষ্ট জনপ্রিয়তা ছিল। ওনার প্রয়াণে গভীর শোঁক প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। পাশাপাশি ওনার পরিবার পরিজনদের উদ্দেশ্যে সমবেদনা জানান।
ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিষ কুমার সাহা বলেন, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের একজন অগ্রণী নেতা ছিলেন প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত। সমগ্র রাজ্যে একজন জনদরদী মানবিক মুখ হিসাবে পরিচিত ছিলেন তিনি।
প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের অকাল প্রয়াণে বিধায়ক সুদিপ রায় বর্মণও শোঁক প্রকাশ করে বলেন, সুনু’দা নেই মানেই একটা রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান এবং রাজনৈতিক আঙ্গিনার উজ্জ্বল এক নক্ষত্রের পতন। তিনি জীবদ্দশায় মানুষের সেবায় সর্বদায় ব্রতী ছিলেন। তাঁর জীবনের প্রতি মহুর্তে নিজের সাধ্যমত মানুষকে পরিষেবা দিয়ে গেছেন। তাঁর প্রয়াণ নিঃসন্দেহে রাজ্য রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর বুধবার রাতে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্রয়াত হন ৭-রামনগর বিধানসভা কেন্দ্রের ৭ বারের বিধায়ক সুরজিৎ দত্ত। তিনি নিজ বিধানসভা কেন্দ্র সহ অনেক মানুষের কাছেই সুনু’দা নামে পরিচিত ছিলেন। বৃহস্পতিবার প্রয়াত বিধায়ক সুরজিৎ দত্তের দেহ রাজ্যে নিয়ে আসার পর শবদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মহাকরণ এবং ত্রিপুরা বিধানসভায়। সেখানে নিয়ে আসা হয় ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি পার্টি অফিসে। তারপর সেখান থেকে তাঁর দেহ রামনগস্থিত নিজ বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বটতলা মহাশ্মশানে। সেখানে গার্ড অফ অনার মাধ্যমে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে তাঁর। সনু দা’কে শেষবারের মতন দেখতে জনতার ভিড় ছিল লক্ষণীয়। জনতার চোখে ছিল বিদায়ের জল।
