স্মার্ট মিটার এবং বর্ধিত বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে গন্ডাছড়ায় উত্তাল জনসাধারণ, পথে সিপিআই(এম)

সুব্রত দাস, গন্ডাছড়া, ১৮ জুলাই || গোটা রাজ্যের পাশাপাশি ধলাই জেলার গন্ডাছড়া মহকুমাও উত্তাল স্মার্ট মিটার এবং আচমকা বেড়ে যাওয়া বিদ্যুৎ বিলের প্রতিবাদে। বিদ্যুৎ দপ্তরের খেয়ালিপনার ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে সিপিআই(এম) মহকুমা বিভাগীয় কমিটির পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানানো হয়েছে, অবিলম্বে স্মার্ট মিটার বসানো এবং বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন তারা।
প্রসঙ্গত, গন্ডাছড়া মহকুমার জনসংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার। এডিসি এলাকার অধিকাংশই পাহাড় ঘেঁষা জনজাতি অধ্যুষিত। বহু গ্রামে এখনও ঝুলছে বিদ্যুতের তার, বাঁকা খুঁটি পড়ে থাকলেও মেরামতির কোনও উদ্যোগ নেই বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে। এই অবস্থার মধ্যেই চলছে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বৃহস্পতিবার রাইমাভ্যালি ব্লক কংগ্রেস বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও ও ভাঙচুরের পর বৃহস্পতিবার সিপিআই(এম) মহকুমা বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে বিদ্যুৎ অফিসে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। নেতৃত্ব দেন সুশান্ত হাজারী। সঙ্গে ছিলেন সুমতিরঞ্জন চাকমা, নারী নেত্রী দশরানী ত্রিপুরা, ধনঞ্জয় ত্রিপুরা সহ পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বিদ্যুৎ দপ্তরের সিনিয়র ম্যানেজারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা স্মারকলিপি প্রদান করেন।
স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়— স্মার্ট মিটার ও বর্ধিত বিদ্যুৎ মাশুল প্রত্যাহার, অচল অবস্থায় থাকা বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হয়। সিনিয়র ম্যানেজার দাবিগুলির প্রতি সহানুভূতির মনোভাব দেখান বলেও জানান সিপিআই(এম) নেতৃত্ব।
ডেপুটেশন শেষে প্রাক্তন বিধায়ক ললিতমোহন ত্রিপুরা বলেন, “এই দাবিগুলির দ্রুত সমাধান না হলে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচিতে সিপিআই(এম) কর্মী, সমর্থক ও নেতৃত্ব এক জঙ্গি মিছিল করে বিদ্যুৎ অফিসে পৌঁছে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। গোটা গন্ডাছড়া মহকুমা জুড়েই বিদ্যুৎ সমস্যা ও স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধের ক্ষোভ ক্রমেই প্রবল হয়ে উঠছে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*