আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৮ জুলাই || শুক্রবার, রাজ্যের সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার চরম বেহাল পরিস্থিতি ও বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের বিরুদ্ধে সরব হয়ে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করল অল ইন্ডিয়া ডেমোক্রেটিক স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (এ আই ডি এস ও)। সংগঠনের প্রতিনিধি দল এদিন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিকর্তার দপ্তরে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করে।
সংগঠনের অভিযোগ, রাজ্যের সরকারি শিক্ষাব্যবস্থা ধীরে ধীরে এক করুণ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। পরিকাঠামোর অভাব, বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট, এবং বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের আওতাভুক্ত স্কুলগুলিতে নানা সমস্যার জেরে ছাত্রছাত্রীরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে বাধ্য হচ্ছে। শহর কিংবা গ্রাম—সর্বত্র একই চিত্র ধরা পড়ছে।
বিশেষত, সরকার পরিচালিত ১২৫টি বনেদী বিদ্যালয়কে বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্পের মাধ্যমে সিবিএসই বোর্ডের অন্তর্ভুক্ত করে অতিরিক্ত ফি চাপানো এবং নবম শ্রেণি থেকে ইংরেজি মাধ্যমে পাঠদান শুরু করার সিদ্ধান্তকে চরম অগণতান্ত্রিক বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। সম্প্রতি আরও ২৫টি বিদ্যালয়কে এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা আরও বেশি সংখ্যক পড়ুয়াকে বেসরকারি স্কুলে যেতে বাধ্য করছে বলে অভিযোগ।
তারা আরও দাবি করে, স্কুল ডেভেলপমেন্ট ফি, মাইগ্রেশন চার্জ সহ আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে না পেরে বহু ছাত্রছাত্রী শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার চাপ ও অতিরিক্ত ব্যয়ভার বহনের অক্ষমতা অনেককেই স্কুলছুট করে তুলছে।
এ আই ডি এস ও আরও তুলে ধরে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে রাজ্যের ৫৮৮টি স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও বহু বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ পাঠ্যবই এখনও বিতরণ করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা সিলেবাসের বই না পেয়ে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটি তাদের পাঁচ দফা দাবি পেশ করে—
1. অবিলম্বে সরকারি স্কুলগুলোর পরিকাঠামো উন্নয়ন করতে হবে।
2. বিদ্যাজ্যোতি প্রকল্প বাতিল করতে হবে।
3. প্রতিটি বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
4. অবিলম্বে সব স্কুলে সম্পূর্ণ পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
5. শিক্ষার সর্বস্তরে সমস্ত প্রকার ফি মকুব করতে হবে।
সংগঠনের দাবি, সরকার যদি অবিলম্বে এসব দাবির বাস্তবায়ন না করে, তাহলে আগামী দিনে বৃহত্তর ছাত্র আন্দোলনের পথে হাঁটবে এ আই ডি এস ও।
