গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ অক্টোবর || জাতীয় পর্যায়ে ত্রিপুরা রাজ্য নতুন ইতিহাস গড়ল। নয়া দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত আদি কর্মযোগী অভিযান-এর জাতীয় সম্মেলনে ত্রিপুরা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার অর্জন করে দেশের অন্যতম সেরা রাজ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে। বিকশিত ভারত উদ্যোগের অংশ হিসেবে ভারতের আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জুয়াল ওরাম এবং প্রতিমন্ত্রী দুর্গাদাস উইকেই।
উত্তর ত্রিপুরা জেলাকে প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযান (PM-JANMAN)-এ দেশের সেরা জেলা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে। জেলার জেলা শাসক ও সংগ্রাহক চান্দনি চন্দ্রন, (আইএএস) রাষ্ট্রপতির হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ করেন। তিনি জানান, “এই স্বীকৃতি উত্তর ত্রিপুরা জেলার জেলা সমাজকল্যাণ দপ্তর, বিডিও এবং সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের একনিষ্ঠ পরিশ্রমের ফল। এটি ত্রিপুরা সরকারের জনকল্যাণমূলক নীতির সাফল্যের প্রতিচ্ছবি।”
এছাড়াও, ত্রিপুরা রাজ্য দু’টি মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় সম্মান অর্জন করেছে — PM-JANMAN বাস্তবায়নে ‘দেশের সেরা রাজ্য’ এবং ধর্তি আবা জনভাগিদারি অভিযান (DAJA)-এর অধীনে ‘সেরা রাজ্য’-এর খেতাব। এই পুরস্কার গ্রহণ করেন রাজ্যের ত্রিপুরা সমাজকল্যাণ দপ্তরের সচিব ড. কে. শশীকুমার, আইএফএস।
গোমতী জেলা আদি কর্মযোগী অভিযান ও ধর্তি আবা জনভাগিদারি অভিযান-এ অসাধারণ সাফল্যের জন্য বিশেষ সম্মান পেয়েছে। পাশাপাশি, উনকোটি ও ধলাই জেলাও DAJA-এর অধীনে তাদের কার্যকরী ভূমিকার জন্য জাতীয় স্বীকৃতি লাভ করেছে।
রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের মতে, এই সাফল্য ত্রিপুরার অন্তর্ভুক্তিমূলক ও তৃণমূলভিত্তিক উন্নয়ন নীতির ফল। PM-JANMAN প্রকল্পের আওতায় রাজ্যে এখন পর্যন্ত ১৫,৫৮৪টি বাড়ি নির্মিত হয়েছে, আরও ১,৬৩২টি বাড়ি নির্মাণাধীন। ১৪১টি নতুন আঙনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, ৩৮,০১৪টি পিভিটিজি পরিবারকে পরিষ্কার পানীয় জলের সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ১১,৬৯২টি পরিবার বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছে (এর মধ্যে ১,০৫১টি সৌর শক্তির মাধ্যমে)। এছাড়া ১০টি মোবাইল নেটওয়ার্ক টাওয়ার স্থাপন, ১৮টি বহুমুখী কেন্দ্র নির্মাণ (আরও ৩২টি নির্মাণাধীন), ৩০টি ভান ধন বিকাশ কেন্দ্র চালু এবং ৬৭টি গ্রামীণ রাস্তা (মোট ২০৫ কিলোমিটার) নির্মাণ কার্যক্রমও চলছে।
গত ১৫ জুন ২০২৫-এ শুরু হওয়া ধর্তি আবা জনভাগিদারি অভিযান এখন দেশের বৃহত্তম আদিবাসী ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। রাজ্যের সমাজকল্যাণ দপ্তরের দাবি, ত্রিপুরার ‘স্যাচুরেশন ক্যাম্প মডেল’ দেশজুড়ে নজির সৃষ্টি করেছে। এই মডেলে ৪,০৩৬টি ক্যাম্পে প্রায় ১২.৭ লক্ষ আদিবাসী নাগরিককে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা — যেমন পরিচয়পত্র, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, স্বাস্থ্যসুরক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা।
আদি কর্মযোগী অভিযান–এর মাধ্যমে ৩৯২টি উপজাতি অধ্যুষিত গ্রামকে স্বনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে উৎসাহিত করা হয়েছে। সেবা, সমর্পণ ও সংকল্প—এই তিন মূলনীতি অবলম্বন করে এই উদ্যোগ উপজাতি প্রশাসনে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ত্রিপুরার এই জাতীয় স্বীকৃতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে জেলা প্রশাসন ও তৃণমূল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের ফল। এই সম্মান কেবল রাজ্যের অর্জন নয়, এটি প্রতিটি আদিবাসী নাগরিকের মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি এবং ন্যায়নিষ্ঠ উন্নয়নের প্রতীক।
