গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ অক্টোবর || শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে তীব্রভাবে ভাইরাল হয়েছে তিপ্রা মথা পার্টির শীর্ষ নেতা এবং বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার নামে প্রকাশিত একাধিক বাংলাদেশি পরিচয়পত্র ও ভোটার ডকুমেন্ট। ওই নথিতে থাকা নম্বর, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি শীর্ষক তথ্যকে ঘিরে অনেকে দাবি তুলেছেন যে রঞ্জিত দেববর্মা দুই দেশের নাগরিকত্ব ধরে রেখেছেন—এমনকি কিছু সোশাল পোস্টে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেও ব্যবহার করা হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া ছবি-ডকুমেন্টগুলির স্ক্রিনশট ও রি-শেয়ার নোটগুলো সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্য রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অনেকে এসব নথিকে প্রমাণ হিসেবে ধরে প্রশাসনের কর্ণধারদের কাছে দ্রুত তদন্ত দাবি করেছেন; অনেকে আবার নথিগুলোতে ম্যানিপুলেশন বা জালিয়াতির সম্ভাবনার কথাও তোলেন।
ঘটনার কেন্দ্রস্থলে থাকা রঞ্জিত দেববর্মা নিজে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিলে খোদ পোস্টে ঘটনাটিকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছেন এবং সরাসরি এক স্থানীয় টিভি চ্যানেল ‘হেডলাইনস ত্রিপুরা ন্যাশনাল’-এর সম্পাদক প্রণব সরকারকে দায়ী করেছেন। তাঁর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই চ্যানেল আমার নামে ভুয়া বাংলাদেশি পরিচয়পত্র তৈরি করে এবং তা ভাইরাল করেছে; যারা এই মিথ্যে গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব।” রঞ্জিত দেববর্মার দাবি অনুযায়ী, যে কেউ তাঁর নামে আসল নয় এমন ডকুমেন্ট তৈরি ও প্রচার করবে—তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের তরফে এখনো পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তিনি তাঁর পোষ্টে লিখেছেন লিখেছেন, — ‘”হেডলাইন ত্রিপুরা ন্যাশনাল” একটি টিভি চ্যানেল যারা আমার নামে ভুয়া বাংলাদেশ পরিচয়পত্র তৈরি করছে। ত্রিপুরা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক প্রণব সরকার এই চ্যানেলের মালিক। এই চ্যানেলটি এখন ভাইরাল। তাই, আমি শীঘ্রই আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। যে কেউ আমার নামে ভুয়া বাংলাদেশ পরিচয়পত্র তৈরি করবে এবং মিথ্যা গুজব ছড়াবে তাকে আইন অনুসারে শাস্তি দেওয়া হবে।’
গোটা ঘটনায় জনমনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, তা প্রশমনের জন্য জন্মনিবন্ধন বা ভোটার আইডির মতো নথি যাচাইয়ের জন্য সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের অফিসিয়াল ভেরিফিকেশন পোর্টাল, QR/বাক্সকোড স্ক্যান এবং সরকারিভাবে যাচাই করা নম্বর ব্যবহার করতে হয়। আইনজ্ঞরা বলছেন—যদি নথি জালপ্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মানহানি ও জালিয়াতির ধারা প্রযোজ্য হতে পারে; অন্যদিকে যদি নথি বৈধ বলে নিশ্চিত হয়, তখন বিষয়টি রাজনৈতিক ও জটিল কূটনৈতিক প্রয়োগও পেতে পারে।
