এডিসি নির্বাচনের আগে বড়মুড়ায় বিজেপি’র শক্তি প্রদর্শন, তিপ্রা মথা পার্টি ও সিপিআই(এম) ছেড়ে ৪৯৫ জনের বিজেপি’তে যোগদান!

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ জানুয়ারি || স্বশাসিত জেলা পরিষদ (এডিসি) নির্বাচনের প্রাক্কালে বড়মুড়ায় উল্লেখযোগ্য রাজনৈতিক জমায়েতের সাক্ষী থাকল ত্রিপুরা। ১৬-মান্দাই নগর বিধানসভা কেন্দ্রের উদ্যোগে রবিবার বিকেলে বড়মুড়া (হাতাইকতর) পাহাড়ের পাদদেশে বিজেপির একটি বৃহৎ যোগদান সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয় এবং রাজনৈতিক দিক থেকে এটিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা, বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, উপজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা, বিধানসভার মুখ্য সচেতক ও তেলিয়ামুড়ার বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়, কল্যাণপুর-প্রমোদনগরের বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, জনজাতি যুবনেতা বিপীন দেববর্মা সহ দলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।
সভায় ১৮১টি পরিবার থেকে মোট ৪৯৫ জন জনজাতি ভোটার তিপ্রা মথা ও সিপিআইএম ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় এই দলবদল এডিসি নির্বাচনের আগে বিজেপির জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে।
সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা বলেন, বিজেপি সরকার সব সম্প্রদায়ের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং উন্নয়ন ও শান্তির রাজনীতিকে সামনে রেখেই রাজ্য এগিয়ে চলেছে। তিনি অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘ বাম আমলের সময় ঘটে যাওয়া একাধিক ঘটনাকে ত্রিপুরার মানুষ ভুলে যায়নি। এসব অভিজ্ঞতা থেকেই রাজ্যের মানুষ পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য তার বক্তব্যে তৎকালীন বাম শাসনের তীব্র সমালোচনা করেন এবং বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। সভার শেষ পর্যায়ে বিধায়িকা কল্যাণী সাহা রায়ের বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তিপ্রামথা পার্টি ও সিপিআই(এম) এর প্রভাবশালী এলাকা হিসেবে পরিচিত অঞ্চলে এই যোগদান বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। আসন্ন এডিসি নির্বাচনে জনজাতি ভোটব্যাংকের দখল নিয়ে যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে, এই সভা তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আগামী দিনে এই যোগদানের প্রভাব নির্বাচনী ফলাফলে কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*