গোপাল সিং, খোয়াই, ০৮ সেপ্টেম্বর || আমবাসা হয়ে খোয়াই ও তেলিয়ামুড়ায় বিপুল পরিমাণ ‘এসকফ’ প্রবেশের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের পর এবার মুঙ্গিয়াকামি থানা এলাকায় পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হল ১৯৪ বোতল নিষিদ্ধ কফ সিরাপ। ঘটনায় বহিরাজ্যের দুই যুবককে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে এনডিপিএস আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সড়কে একটি সন্দেহভাজন গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ওই নেশাজাতীয় সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে গাড়িতে থাকা দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর সঙ্গে তেলিয়ামুড়া ও খোয়াই বনকর এলাকার নেশাকারবারীদের যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এই যোগসূত্রের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
এর আগে বাইজালবাড়ী এলাকায় নেশাজাতীয় সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরেও বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছিল। এবার মুঙ্গিয়াকামিতে ১৯৪ বোতল ‘এসকফ’ উদ্ধারের পর স্থানীয় মহলে ফের ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বড় চালানের সামান্য অংশ উদ্ধার করে মূল কারবারিদের আড়াল করার চেষ্টা হচ্ছে। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, শনিবার গভীর রাতে আমবাসা এসডিপিও-র ধাওয়া করা একটি সন্দেহভাজন গাড়ির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় সামগ্রী থাকার অভিযোগ ছিল। পরবর্তীতে ওই গাড়ির আর হদিস না মেলায় এবং চাম্পাহাওড়া পুলিশের রাতভর সীমান্ত কর্ডনের পরও কথিত বড় চালান আটক না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ১০০ বা ১৯৪ বোতলের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট অংশ উদ্ধার করে যদি বড় চালানের বিষয়টি আড়াল করা হয়, তাহলে প্রকৃত চক্রের হদিস পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। তাই উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস, গন্তব্য এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল চক্রীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
তবে পুরো বিষয়টি এখন পুলিশের তদন্তাধীন। আটক দুই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ করে উদ্ধার হওয়া নেশাজাতীয় সামগ্রীর উৎস এবং এর পেছনে থাকা চক্র সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কথিত বড় চালান এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল কারবারিদের সন্ধানে তদন্ত কতদূর এগোয়, এখন সেদিকেই নজর সাধারণ মানুষের।
