খোয়াই জেলা সরস মেলা: উদ্বোধনী মঞ্চে প্রশংসা, ময়দানে প্রশ্ন—প্রকৃত উপকার পাচ্ছে কি সাধারণ স্ব-সহায়ক দল?

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৪ ফেব্রুয়ারি || খোয়াই জেলা শাসক ও সমাহর্তাকার্যালয়ের উদ্যোগে খোয়াই চৈত্র মেলা প্রাঙ্গণে শুরু হলো তৃতীয় বর্ষের তিনদিনব্যাপী খোয়াই জেলা সরস মেলা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহকারী জেলা শাসক ও সমাহর্তা অভেদানন্দ বৈদ্য, ত্রিপুরা সরকারের বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা, বিশিষ্ট সমাজসেবক বিনয় দেববর্মা, অনুকুল দাস সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খোয়াই পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন দেবাশীষ নাথশর্মা।
উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বনমন্ত্রী অনিমেষ দেববর্মা সরস মেলার মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার সরকারের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্যে এই মেলাকে গ্রামীণ অর্থনীতি ও স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর ক্ষমতায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে তুলে ধরা হয়। বনমন্ত্রী বলেন, ২০১৮ সালের পূর্বে ত্রিপুরায় স্ব-সহায়ক দল ছিল ৩ হাজার ৫শ, কিন্তু ২০১৮ থেকে ২০২৬ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রায় ৫৪ হাজার স্ব-সহায়ক দল গড়ে উঠেছে ত্রিপুরায়। তিনি আরও যোগ করেন, মেলায় তুলাশিখর আরডি ব্লকের একজন লাখপতি দিদি রয়েছেন, এলিনা দেববর্মা। তিনি মাসে ৩০ হাজার করে বছরে ৩ লাখ ৬০ হাজার আয় করেন।
তবে মঞ্চের বক্তব্যের বাইরে বাস্তব চিত্র নিয়ে উঠতে শুরু করেছে একাধিক প্রশ্ন। স্থানীয় জনগণের দাবি, মেলায় মূলত কিছু স্ব-সহায়ক গোষ্ঠীর উপস্থিতিই চোখে পড়ছে এবং বৃহত্তর পরিসরে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর ও ক্ষুদ্র উদ্যোগপতিদের প্রত্যাশিত অংশগ্রহণ তেমনভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। লাউ, কুমরো নিয়ে টেবিল সাজিয়ে বসে আছে স্ব-সহায়ক দলগুলো। বাস্তব আর ভাষনে গরমিল খুঁজে পেলেন জনগণ।
এছাড়াও অভিযোগ উঠেছে, অনেক স্ব-সহায়ক দলের সাধারণ সদস্যরা প্রকৃত সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকলেও, গোষ্ঠীর নেতৃত্বস্থানীয় বা “গ্রুপের মাথারা” তুলনামূলকভাবে বেশি সুবিধা ভোগ করছেন। ফলে এই মেলা সত্যিই কতটা প্রান্তিক গোষ্ঠীর আর্থিক ও সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন একাংশ সংশ্লিষ্ট মহল।
স্থানীয়দের মতে, সরস মেলার মতো উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত প্রকৃত প্রান্তিক উৎপাদক ও শিল্পীদের সরাসরি উপকৃত করা। সেই লক্ষ্য কতটা পূরণ হচ্ছে, তা স্বচ্ছভাবে খতিয়ে দেখা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা জরুরি বলে মনে করছেন জনগণ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*