আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ ফেব্রুয়ারী || একদিনের সরকারি সফরে শুক্রবার ত্রিপুরায় পৌঁছালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিএসএফের বিশেষ বিমানে তিনি আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দর-এ অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা, সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব, সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার সহ প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি হাঁপানিয়া মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনে যোগ দেন। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, ভাষা কোনো বিবাদের বিষয় নয়, বরং বিকাশের মাধ্যম। ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ভাষাকে নাগরী (দেবনাগরী) লিপিতে সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, বিদেশি লিপির মাধ্যমে দেশীয় ভাষার যথাযথ সংরক্ষণ সম্ভব নয়।
ত্রিপুরায় যারা বিদেশি লিপিতে ভাষা সংরক্ষণের পক্ষে, তাঁদের দেবনাগরী লিপি গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন গৃহমন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশে দুই হাজারেরও বেশি ভাষা দেবনাগরী লিপির মাধ্যমে সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং যেসব ভাষার নিজস্ব লিপি নেই, সেগুলির প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশে এই লিপি কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে।
ভাষা-নীতি ও রাষ্ট্রগঠনে রাজভাষা এবং আঞ্চলিক ভাষার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ত্রিপুরায় ভাষাকে কেন্দ্র করে বড় কোনো বিবাদ নেই; বাংলা, ককবরক ও হিন্দি সমান্তরালভাবে চলছে। হিন্দি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষার মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব নেই—বরং “একই মায়ের দুই বোন”-এর মতো সম্পর্ক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রসঙ্গ তুলে গৃহমন্ত্রী বলেন, আটটি রাজ্যে দুই শতাধিক ভাষা, অসংখ্য জনজাতি ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি বিদ্যমান। গত এক দশকে বিভিন্ন শান্তি চুক্তির মাধ্যমে অঞ্চলে নতুন উন্নয়ন ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যার ফলে রাজভাষা সম্মেলনের মতো অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে আয়োজন সম্ভব হচ্ছে।
মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি পরিবার ও সমাজকে ভাষা সংরক্ষণ ও বিকাশে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
