সাগর দেব, তেলিয়ামুড়া, ১৪ মে || ধর্মীয় চড়ক মেলার আড়ালে প্রকাশ্যে চলছিল জমজমাট জুয়ার আসর! তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত মাইগঙ্গা সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের মাঠ রাত বাড়তেই যেন পরিণত হয় “ঝান্ডিমুন্ডা খেলার মুক্তাঞ্চলে”। অভিযোগ, এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও তথাকথিত নেতাদের মদতেই প্রকাশ্যে বসানো হয়েছিল এই অবৈধ জুয়ার আসর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলায় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই মাঠজুড়ে শুরু হয় টাকার খেলা। গুটির শব্দ আর বোর্ডে টাকা ওড়ানোর দৃশ্য দেখে ক্ষোভ ছড়ায় সচেতন মহলে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই মেলার সুযোগ নিয়ে এই ধরনের জুয়ার আসর বসানো হলেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছিল পুরো কারবার।
অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানে জুয়া খেলার বিভিন্ন সরঞ্জাম, নগদ অর্থ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে দুই জুয়ারিকে আটক করে পুলিশ। হঠাৎ পুলিশের হানায় মেলাপ্রাঙ্গণে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এস.আই সুমিত্রা দেববর্মা জানান, সমাজ থেকে এই ধরনের অবৈধ জুয়া নির্মূল করতে শুধু পুলিশের অভিযান যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সচেতন নাগরিকদের প্রশাসনকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।
এদিকে, ধর্মীয় মেলার পবিত্র পরিবেশকে আড়াল করে কীভাবে প্রকাশ্যে জুয়ার আসর চলছিল, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। “ঝান্ডিমুন্ডা সিন্ডিকেট”-এর নেপথ্যে কারা রয়েছে, সেই দিকেই এখন তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
