পশ্চিম পিলাক সাহা পাথরে নিম্নমানের রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০১ এপ্রিল || দক্ষিণ ত্রিপুরার জোলাইবাড়ী বিধানসভা কেন্দ্রের পশ্চিম পিলাক সাহা পাথর এলাকায় নির্মীয়মাণ একটি রাস্তার কাজকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। অভিযোগ, প্রায় দুই কোটি টাকার বরাদ্দে নির্মিত এই রাস্তার কাজ অত্যন্ত নিম্নমানেরভাবে করা হচ্ছে।
জানা যায়, এলাকার সার্বিক উন্নয়নে মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া ধারাবাহিকভাবে কাজ করে চলেছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, কিছু ঠিকাদার ইচ্ছাকৃতভাবে নিম্নমানের কাজ করে মন্ত্রীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে। উক্ত রাস্তা নির্মাণের দায়িত্বে রয়েছেন ঠিকাদার সঞ্জয় বিশ্বাস।
স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন রাস্তা নির্মাণের জন্য এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের জমির একটি অংশ ছেড়ে দিয়েছেন। কিন্তু সেই রাস্তার কাজেই দেখা যাচ্ছে একাধিক অনিয়ম। বিশেষ করে রাস্তার সাইড ওয়াল নির্মাণে গাফিলতি এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অনেক জায়গায় সাইড ওয়াল সঠিকভাবে নির্মাণ করা হয়নি, আর যেখানে করা হয়েছে সেখানেও মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এলাকাবাসীরা জানান, বিষয়টি একাধিকবার ঠিকাদারকে জানানো হলেও তাতে কোনো সুরাহা হয়নি। তাদের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক স্বার্থে এবং বামপন্থীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই ধরনের কাজ করা হচ্ছে, যাতে মন্ত্রীর উন্নয়নমূলক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অপরদিকে, বাইখোড়া পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার সুকান্ত দেবনাথের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে লক্ষীছড়া এলাকায় তার তত্ত্বাবধানে নির্মিত আরেকটি রাস্তায় নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে মেটেলিং করার অভিযোগও সামনে এসেছে।
বাইখোড়া পূর্ত দপ্তরের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলেও দাবি এলাকাবাসীর। তাদের অভিযোগ, দপ্তরের একাংশ আধিকারিক ও ইঞ্জিনিয়ার মিলে বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়ম করে বেআইনি অর্থ উপার্জনে লিপ্ত।
এমতাবস্থায়, স্থানীয়রা দ্রুত পূর্ত দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের আশা, প্রশাসন সরেজমিনে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*