সীমান্তে কড়া নজরদারি ও জনসম্পর্ক অভিযান: রাত জেগে বিএসএফ ক্যাম্পে টহলদারি খোয়াই পুলিশ সুপারের

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ মে || সীমান্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অনুপ্রবেশ ও সীমান্ত অপরাধ রুখতে খোয়াই জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে ম্যারাথন দৌড় ও কড়া নজরদারি চালালেন জেলা পুলিশ সুপার বোগাতি জগদীশ্বর রেড্ডি। ১২ই মে, বিকেল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত বিএসএফ এবং পুলিশের যৌথ এই অভিযানে সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময়ের পাশাপাশি নিরাপত্তার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হয়।
মঙ্গলবার বিকেল ৫টা নাগাদ পুলিশ সুপার বোগাতি জগদীশ্বর রেড্ডি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিস জোসেফ, এসডিপিও খোয়াই ডি কুদিয়ারাসু এবং বিএসএফ-এর ৭০ নম্বর ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার এম কে শর্মা ও চাম্পাহাওড় থানার ওসি-কে নিয়ে বনবাজার এলাকায় এক ‘প্রয়াস’ (Prayaas) সভায় মিলিত হন। সীমান্তবর্তী বনবাজার বাজারের এই সভায় উপস্থিত গ্রামবাসীদের উদ্দেশে এসপি বলেন, সীমান্ত অপরাধ এবং অনুপ্রবেশ রোধে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা একান্ত কাম্য। এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এরপর সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা নাগাদ পুলিশ সুপার বিএসএফ কর্মকর্তাদের নিয়ে উদনাবাড়ি সীমান্ত গ্রাম পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি গ্রামবাসীদের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং সীমান্ত নিরাপত্তা প্রোটোকল সম্পর্কে তাঁদের সচেতন করেন। বিএসএফ-এর কাজে সহায়তা করা এবং যেকোনো সন্দেহজনক গতিবিধি তৎক্ষণাৎ প্রশাসনকে জানানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি জোর দেন।

সীমান্ত পরিদর্শনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি শুরু হয় রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ। বিএসএফ-এর ৭০ নম্বর ব্যাটালিয়নের আওতাধীন চামুবস্তি বিওপি এলাকায় এক যৌথ নৈশ টহলদারি (Foot Patrolling) চালানো হয়। এই টহলদারিতে পুলিশ সুপারের সাথে যোগ দেন বিএসএফ-এর ৭০ নম্বর ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এম কে শর্মা। দুই বাহিনীর শীর্ষ আধিকারিকরা যৌথভাবে বিভিন্ন অবজারভেশন পোস্ট, সিসিটিভি কন্ট্রোল রুম এবং ফিক্সড পকেটগুলো পরিদর্শন করেন। সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন এলাকায় বিএসএফ-এর টহলদারি ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন তাঁরা।
দীর্ঘ এই নিরাপত্তা পর্যালোচনা ও পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার বোগাতি জগদীশ্বর রেড্ডি চামুবস্তি বিএসএফ বিওপিতেই নৈশযাপন করেন। জেলা পুলিশের সর্বোচ্চ আধিকারিকের সীমান্তে এই উপস্থিতি এবং রাত কাটানোর বিষয়টি সীমান্তবাসীদের মনে যেমন ভরসা জুগিয়েছে, তেমনি নিরাপত্তা কর্মীদের মনোবলও বৃদ্ধি করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, এই ধরণের সক্রিয়তা সীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কতটা ফলপ্রসূ হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*