বেলা ১টা পেরোলেও তালাবন্ধ রাজাপুর পঞ্চায়েত অফিস, “এটা সরকারি দপ্তর না জমিদারের কাছারি?” — প্রশ্ন জনমনে

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ১২ মে || সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টায় অফিস খোলার কথা। অথচ বেলা ১টা পেরিয়ে গেলেও তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেল শান্তিরবাজার মহকুমার বগাফা ব্লকের অন্তর্গত রাজাপুর পঞ্চায়েত অফিস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন একই চিত্র দেখা যাচ্ছে রাজাপুর পঞ্চায়েতে। পঞ্চায়েত সচিব সুব্রত নাথ, তুলসী দে এবং জিআরএস প্রমোদ রিয়াং ও শৈলেন রিয়াং-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দেরিতে অফিসে আসার অভিযোগ উঠছে। সরকারি নিয়ম-কানুনকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কখন অফিস খুলবে, তার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই বলেই দাবি এলাকাবাসীর।
ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ খেটে-খাওয়া মানুষ। সকাল থেকে রোদে পুড়ে, নিজেদের জরুরি কাজ ফেলে দূর-দূরান্ত থেকে পঞ্চায়েতে আসা বহু মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও পরিষেবা না পেয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। কারও জরুরি সার্টিফিকেট প্রয়োজন, কারও জব কার্ড সংক্রান্ত কাজ, আবার কেউ আবাস যোজনার খোঁজ নিতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন।
ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, “আমাদের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে অফিসে না আসার সাহস পায় কীভাবে? সরকারি অফিস যদি সময়মতো না খোলে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?”
এদিকে বগাফা ব্লক প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের একাংশের প্রশ্ন, “বিডিও কি বিষয়টি জানেন না? নাকি রাজাপুর পঞ্চায়েত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছে?”
সরকার যেখানে “দুয়ারে সরকার” কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার কথা বলছে, সেখানে রাজাপুর পঞ্চায়েতে দিনের পর দিন “দুয়ারে তালা” ঝুলতে দেখা যাওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
এখন দেখার, প্রশাসন এই অভিযোগের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে কিনা। জনমনে একটাই প্রশ্ন— এই স্বেচ্ছাচারিতা আর কতদিন চলবে?

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*