গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ মে || খোয়াই জেলায়, বিশেষ করে সম্প্রতী খোয়াই মহকুমাতে ‘জম্বি ড্রাগ’ এর উপস্থিতি এবং এর প্রভাবে যুবসমাজের আক্রান্ত হওয়ার খবরটি সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর এবং গুজব বলে বিবৃতি দিল খোয়াই জেলা পুলিশ। আজ খোয়াই জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক বিশেষ প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই তথ্য স্পষ্ট করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এবং বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রান্ত খবরকে পুরোপুরি নাকচ করে দিয়ে সাধারণ মানুষকে কোনো ধরণের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষ। খোয়াই জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে জারি করা (No. 5002 /F.3(18-1)/SP/DIB/KHW/25) বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জেলায় জম্বি ড্রাগের উপস্থিতি নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে খোয়াই ও তেলিয়ামুড়া মহকুমার মহকুমা পুলিশ আধিকারিকদের (SDPO) দিয়ে একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত ও অনুসন্ধান চালানো হয়েছে। এই তদন্তে খোয়াই জেলার কোথাও আজ পর্যন্ত জম্বি গ্রুপের কোনো মাদকের উপস্থিতি, কোনো অভিযোগ, এফআইআর (FIR), মাদক বাজেয়াপ্ত বা গ্রেফতারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এমনকি চিকিৎসাগতভাবেও এমন কোনো ঘটনার সত্যতা মেলেনি। পুলিশ আরও জানিয়েছে, স্বাস্থ্য দপ্তর এবং অন্যান্য সহযোগী গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যেও খোয়াই জেলায় এই ধরণের কোনো মারাত্মক মাদক ছড়িয়ে পড়ার বা লেনদেন হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যেখানে দাবি করা হয়েছিল খোয়াই মহাদেবটিলায় এক যুবক ‘জম্বি ড্রাগ’-এর নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছেন। এই বিষয়ে খোয়াই থানার পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেরেছে যে, ওই ব্যক্তিটি আসলে অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তদন্ত সাপেক্ষেই পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মাদকাসক্তি নয়, বরং অতিরিক্ত অ্যালকোহলের প্রভাবেই ওই ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়েছিল বলে দাবি খোয়াই জেলা পুলিশের।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ নাগরিক ও নেটিজেনদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, আপনারা কোনো ধরণের যাচাই না করা রিপোর্ট বা সামাজিক মাধ্যমের গুজবে বিশ্বাস করবেন না এবং তা শেয়ার বা প্রচার করবেন না। পুলিশ প্রশাসন স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, রাজ্য সরকারের ‘নেশামুক্ত ত্রিপুরা’ মিশনকে সফল করতে খোয়াই জেলা পুলিশ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো ধরণের মাদক পাচার, মজুত এবং ব্যবহারের বিরুদ্ধে পুলিশের কঠোর আইনি বলবৎকরণ, নজরদারি এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি অবিরাম জারি রয়েছে এবং আগামীদিনেও থাকবে।
