গোপাল সিং, খোয়াই, ১৭ মে || দলের নীতি ও মূল এজেন্ডা নিয়ে খোদ দলেরই আমবাসা কেন্দ্রের বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মা নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রশ্ন তোলায় রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আর এই পোস্টের পরই চাঁচাছোলা ভাষায় তার তীব্র পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিলেন রামচন্দ্রঘাট কেন্দ্রের স্বদলীয় বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা।
ঘটনার সূত্রপাত বিধায়ক চিত্তরঞ্জন দেববর্মার একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। তিনি তাঁর ব্যক্তিগত পেজে তিপ্রামথা পার্টির মূল দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে লেখেন, “তিপ্রামথা পার্টি ‘তিপ্রাল্যান্ড’ রাজ্যের দাবি জানায় না।” তিনি সরাসরি বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মাকে নিশানা করে লেখেন, “রঞ্জিত দেববর্মা হয়তো বলবেন যে, চিত্তরঞ্জন দেববর্মার পদত্যাগ করা উচিত।’ কিন্তু রঞ্জিত দেববর্মা লিখেন, ‘তবে সবার আগে আমি জানতে চাই—আপনি কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন যে, তিপ্রামথা পার্টি ‘তিপ্রাল্যান্ড’ চায় না? আপনি কি কখনও হিসাব কষে দেখেছেন যে, আপনি কত বছর ধরে এই দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন?’
রঞ্জিত দেববর্মার আরও দাবি করতে গিয়ে দলবিরোধী কাজের অভিযোগ এনে আরও লেখেন, “আপনি কীভাবে এগুলি দাবি করতে পারেন? আপনি তো দলের কার্যক্রমেই যুক্ত নন এবং দলের কোনো সভাসমিতিতেও উপস্থিত থাকেন না? এডিসি (TTAADC) নির্বাচন কমিটির রেস্ট হাউসে বসে বিজেপি (BJP) প্রার্থীর সঙ্গে আপনার যে বৈঠকটি হলো—তার মানে কি ‘তিপ্রাল্যান্ড’ রাজ্য চাওয়া? আপনি কি সেখানে লিখিতভাবে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন? মনে রাখবেন, আপনি এখনও তিপ্রামথা পার্টির মনোনয়ন বা টিকিটের জোরেই বিধায়ক পদে বহাল আছেন। আপনি কি দলের পূর্বানুমতি ছাড়াই বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে বৈঠক করেন?”
এখানেই থামেননি রঞ্জিত দেববর্মা। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে লেখেন, “আপনার যদি সাহস থাকে, তবে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করুন এবং উপনির্বাচনে লড়ে জয়ী হয়ে আসুন। বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর, আপনি এডিসি নির্বাচনে ভোটও দেননি।” আইপিএফটি (IPFT) দলের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, “সাধারণ মানুষ বলাবলি করছে যে—আইপিএফটি দলের অস্তিত্ব থাকাকালীনও আপনি নিজের দলবল নিয়ে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করে বেড়িয়েছেন। এমনকি এখনও আপনার সেই বিশ্বাসঘাতকতার রূপ মানুষের সামনে উন্মোচিত হচ্ছে। আপনি আসলে সত্যিই ‘তিপ্রাল্যান্ড’ চান—নাকি কেবল কোনো ‘পদ-পদবি’র লোভে আছেন—তা সাধারণ মানুষ খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে; আর কে আপনাকে সেই পদ পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করছে, সেটাও মানুষের অজানা নয়। সেই ব্যক্তিটি তো আপনার ঠিক পাশেই বসে আছেন। তাঁরাই আমাকে বিজেপি প্রার্থীর সঙ্গে আপনার বৈঠকের ছবিটি পাঠিয়েছেন।”
একদিকে যখন তিপ্রামথা পার্টির অন্যতম প্রধান দাবি হিসেবে ‘তিপ্রাল্যান্ড’ বা ‘গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড’-এর কথা বলা হয়, তখন দলেরই বিধায়কের এমন পোস্ট দলের নীতিকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। যদিও রঞ্জিত দেববর্মার পাল্টা আক্রমণের কোনো প্রতিক্রিয়া এখনও আসেনি। কিন্তু এতে যে রঞ্জিত দেববর্মার নৈতিক জয় হয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।
