গোপাল সিং, খোয়াই, ১৬ মে || ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (TTAADC)-ভুক্ত বৈধ লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের পিডব্লিউডি সহ বিভিন্ন সরকারি টেন্ডারে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ নিয়ে তৈরি হওয়া জট অবশেষে কাটতে চলেছে। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং জটিলতা নিরসনের দাবিতে আজ সরাসরি রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার সাথে সাক্ষাৎ করলেন তিপ্রামথা পার্টির রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার নেতৃত্বে তিন সদস্যের এক প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে ছিলেন এমডিসি সুরজ দেববর্মা ও এমডিসি উৎপল দেববর্মা।
সাক্ষাৎ শেষে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা দিয়ে জানান, টিটিএএডিসি ঠিকাদারদের অধিকার হরণের এই সংবেদনশীল বিষয়টি সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা আগে থেকে সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন না। প্রতিনিধি দলের কাছ থেকে বিস্তারিত জানার পর মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সদর্থক ভূমিকা নেন এবং স্পষ্ট আশ্বাস দেন যে, আগামীকাল থেকেই এডিসি-র ঠিকাদারদের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা বা আইনি বাধা থাকবে না।
উল্লেখ্য, স্বশাসিত জেলা পরিষদের তালিকাভুক্ত ঠিকাদারদের ন্যায্য অধিকার ফিরিয়ে দিতে গত ১২ই মে পিডব্লিউডি-র মুখ্য বাস্তুকারের (Chief Engineer) নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনিক স্তরে কোনো গতি না আসায়, আজ বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর নিকট আবেদন জানিয়ে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি তুলে দেন।
স্মারকলিপিতে জনপ্রতিনিধিরা ক্ষোভের সাথে জানিয়েছিলেন, কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি বা উপযুক্ত কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে টিটিএএডিসি-র লাইসেন্সধারী ঠিকাদারদের রাজ্য সরকারের পিডব্লিউডি (PWD R&B) এবং অন্যান্য দপ্তরের টেন্ডারে (DNIT) অংশ নেওয়ার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। অথচ, পূর্বে কল্যাণ মানিক থেকে দালান টিলা পর্যন্ত ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকারও বেশি মূল্যের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা পদ্মবিল ব্লকের বোরকের থেকে বেলছড়া বাজার পর্যন্ত ৩ কোটি ৮৬ লক্ষ টাকার সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের মতো বড় বড় কাজে তাঁদের অংশগ্রহণের স্পষ্ট সুযোগ ছিল।
এই আকস্মিক নিষেধাজ্ঞার ফলে টিটিএএডিসি এলাকার ঠিকাদার মহলে তীব্র অসন্তোষ ও আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পূর্বে জমা দেওয়া অনেক টেন্ডারও প্রশাসনিক জটিলতায় বিভিন্ন স্তরে ঝুলে ছিল। চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রীকে মনে করিয়ে দেওয়া হয়, এই ধরণের বৈষম্যমূলক আচরণ সরকারের মূল মন্ত্র “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস”-এর পরিপন্থী।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার তাৎক্ষণিক ও ইতিবাচক হস্তক্ষেপে এবং আগামীকাল থেকেই এই প্রতিবন্ধকতা দূর করার স্পষ্ট আশ্বাসে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াই ও আন্দোলনের বড় জয় দেখছেন টিটিএএডিসি এলাকার ঠিকাদাররা। মুখ্যমন্ত্রীর এই আশ্বাসের পর রাজ্যের উপজাতি এলাকা এবং ঠিকাদার মহলে খুশির হাওয়া বইছে। এখন দেখার, আগামীকাল থেকেই এই নির্দেশিকা কার্যকর হয়ে ঠিকাদারদের অধিকার পুনর্বহাল হয় কি না।
