তিপ্রাসা অ্যাকর্ড স্বাক্ষরের ২ বছর পার হলেও মেলেনি সুরাহা, ক্ষোভ ব্যক্ত করে ২০২৬-এর এডিসি নির্বাচনে জোট না করার কারণ খোলসা করলেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৭ মে || ঐতিহাসিক ‘তিপ্রাসা অ্যাকর্ড’ বা ত্রিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর দীর্ঘ ২ বছর ২ মাস ২৪ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও চুক্তি বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এই চরম উদাসীনতার বিরুদ্ধে এবার তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ উগরে দিলেন তিপ্রামথা পার্টির রামচন্দ্রঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। একই সাথে, এই চুক্তি নিয়ে টালবাহানার কারণেই যে ২০২৬ সালের ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ নির্বাচনে ‘বুবগ্রা’ প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা তথা তিপ্রামথা দল বিজেপির সাথে কোনো নির্বাচনী জোট করেনি, সেই বিস্ফোরক সত্যও সামাজিক মাধ্যমে খোলসা করেছেন তিনি।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা তাঁর ব্যক্তিগত সামাজিক মাধ্যমে তিপ্রাসা জনগোষ্ঠীর অধিকার এবং ত্রিপাক্ষিক চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এক দীর্ঘ ও তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট করেন। তিনি লেখেন, “২০২৪ সালের ২রা মার্চ অত্যন্ত ঢাকঢোল পিটিয়ে সেই ঐতিহাসিক ত্রিপাক্ষিক চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। আজ ২ বছর ২ মাস ২৪ দিন পার হয়ে যাওয়ার পরও এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কোনো কাজই করা হয়নি।”
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার সাম্প্রতিক দিল্লি সফরকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বিধায়ক তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর ছড়িয়েছিল যে, মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে সাক্ষাৎ করে দেশের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করেছেন। কিন্তু ২৬শে মে মুখ্যমন্ত্রীর নিজস্ব ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করলেও ত্রিপুরার মূল সমস্যা—অর্থাৎ এই ত্রিপাক্ষিক চুক্তিটি নিয়ে কোনো আলোচনাই করেননি। চুক্তিটি সম্পূর্ণ করাই ছিল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ, অথচ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এ নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব।”
রঞ্জিত দেববর্মা স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিপ্রাসা জনগোষ্ঠী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেছিল যে এই চুক্তির মাধ্যমেই তাদের সাংবিধানিক অধিকারসমূহ প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তিপ্রাসা জনগণ মনে করছে, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার তাদের জন্য যে ত্রিপাক্ষিক চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা আসলে পুরোটাই একটি মিথ্যা প্রহসন ছাড়া আর কিছুই নয়। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা শীর্ষ নেতাদের ফাঁকা বুলি ও কথায় জনগণ আর কোনো আস্থা খুঁজে পাচ্ছে না।
এই চরম রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রেক্ষাপট টেনেই ২০২৬-এর টিটিএএডিসি নির্বাচনের সময় মহারাজা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মার রণকৌশল স্পষ্ট করেন বিধায়ক। তিনি জানান, এই বঞ্চনার কারণেই বুবাগ্রা তথা তিপ্রামথা দল ২০২৬ সালের টিটিএএডিসি নির্বাচনে বিজেপির সাথে কোনো জোটে যায়নি। তিপ্রাসা জনগণের সামনে এখন নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে রাজপথে নেমে সংগ্রাম করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই।
তিনি তিপ্রাসা যুবসমাজ ও আপামর জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের অধিকারের জন্য লড়াই করতে বুবাগ্রা আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এখন আমাদের একমাত্র করণীয় হলো—‘থানসা’ (ঐক্য)-র মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে এবং বুবাগ্রার নির্দেশ অনুসরণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া। বুবাগ্রা মানেই কেবল একজন ব্যক্তি নন, কিংবা তিপ্রাসা মানেও কেবল একটি জনগোষ্ঠী নয়—বরং বুবাগ্রা ও তিপ্রাসা অবিচ্ছেদ্যভাবে এক ও অভিন্ন সত্তা।” ঐতিহাসিক ‘তিপ্রাসা অ্যাকর্ড’ বা ত্রিপাক্ষিক চুক্তি কার্যকর না করায় যে, ২০২৬ সালের টিটিএএডিসি নির্বাচনে বিজেপি’র সাথে জোট হয়নি বলে বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার বিস্ফোরক সামাজিক বার্তা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে এক নতুন ঝড় তুলেছে মনে করছেন জনসাধারণ।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*