গোপল সিং, খোয়াই, ২২ জুন || প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার আবহেও সম্পূর্ণ শান্ত ও সুরক্ষিত রয়েছে খোয়াই সীমান্ত। ওপার বাংলার উত্তাপের সামান্য আঁচও এপারে এসে লাগেনি। এর মূলে রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-র ১০৪ নং ব্যাটালিয়নের সি-কোম্পানি এবং খোয়াই থানার পুলিশ প্রশাসনের যৌথ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ভারত-বাংলাদেশ কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন খোয়াইয়ের পহরমুড়া, ধলাবিল, বাইজালবাড়ী সহ সমগ্র সীমান্ত এলাকায় বিএসএফ এবং থানার সজাগ নজরদারির ফলেই খোয়াইবাসী আজ নির্ভয়ে রাত কাটাতে পারছেন।
একটা সময় ছিল যখন খোয়াই মহকুমায় গবাদি পশু পাচার, মাদক ব্যবসা ও চুরির ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন পুলিশ সুপার রাণাদিত্য দাস এবং খোয়াই থানার বর্তমান ওসি কৃষ্ণধন সরকারের সুদক্ষ যুগলবন্দীতে খোয়াইয়ের সেই কুখ্যাত ‘সিরিজ চুরি’ কাণ্ডে পুরোপুরি ফুলস্টপ লেগে গেছে। দু-একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া খোয়াই আজ শান্ত।
সম্প্রতি খোয়াই থানার ওসি কৃষ্ণধন সরকার এবং বিএসএফের যৌথ তৎপরতায় বেশ কয়েক জোড়া গবাদি পশু বাংলাদেশ সীমান্তে পাচার হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে মাঝপথ থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার হওয়া গবাদিপশুগুলি প্রকৃত মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, এপার থেকে চুরি হয়ে ওপারে পাচার হয়ে যাওয়া দুটি মোটরসাইকেলকেও সীমান্তের ওপার থেকে উদ্ধার করে ভারতের মাটিতে ফিরিয়ে এনে মালিকের হাতে তুলে দিয়েছে খোয়াই থানা, যা প্রশাসনের এক শক্তিশালী নেটওয়ার্কের বড় প্রমাণ।
সীমান্তে কড়া নিরাপত্তাবলয় তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পাচারচক্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিত্যনতুন কৌশল অবলম্বন করছে বিএসএফ ১০৪ নং ব্যাটালিয়নের সি-কোম্পানি ব্যাটালিয়ন। পাচারকারীরা যাতে জলপথ ব্যবহার করতে না পারে, তার জন্য এবার খোয়াই নদীতে নামানো হয়েছে বিএসএফের অত্যাধুনিক ‘স্পীডবোট’। নদীতে স্পীডবোটের এই গর্জন পাচারচক্রের হোতাদের কাছে এক কড়া ও স্পষ্ট বার্তা। আগামী দিনে পাচার রুখতে আরও অভিনব প্রযুক্তি ও কৌশল ব্যবহার করা হবে বলে বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে।
বিএসএফ ১০৪ নং ব্যাটালিয়নের সি-কোম্পানির পেশ করা চলতি বছরের খতিয়ান ও পরিসংখ্যান এক অভাবনীয় সাফল্যের নজির গড়ছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত সীমান্তে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ পাচার সামগ্রী। এরমধ্যে ২৯৭টি গবাদি পশু সীমান্ত পাচারের সময় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, চোরাচালান ও অনুপ্রবেশের দায়ে এখনও পর্যন্ত মোট ৪৮ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার। করা হয়েছে, সীমান্ত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ ড্রাগস, কাশির সিরাপ সহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ মাদক সামগ্রীর আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি।
সীমান্তের কাঁটাতারে বিএসএফের প্রহরা আর এপারের অভ্যন্তরে খোয়াই থানার পুলিশের কঠোর কড়া নজরদারির এই যৌথ সমীকরণ আজ খোয়াইকে মাদক ও পাচারমুক্ত এক শান্ত জনপদে পরিণত করেছে, যার জন্য স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন আপামর খোয়াইবাসী।
