গোপল সিং, খোয়াই, ২৪ জুন || পুলিশ চাইলে কিনা পারে। ‘লেডি সিঙ্গম’ খোয়াই মহিলা থানার ওসি মিনা দেববর্মা’র তৎপরতায় রক্ষা পেল খোয়াই জাম্বুরা এলাকার এক গৃহবধূ। বহিরাজ্যে কাজের সন্ধানে গিয়ে আন্তর্জাতিক নারী পাচারচক্রের মরণফাঁদে পা দেওয়া খোয়াইয়ের এক অসহায় গৃহবধূকে উদ্ধার করল পুলিশ। খোয়াই মহিলা থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মিনা দেববর্মার অসামান্য বুদ্ধিমত্তা, নিখুঁত পরিকল্পনা এবং এক অবিশ্বাস্য ‘এস্কেপ ফর্মুলা’-র জেরে শেষ অবধি চলন্ত ট্রেনের খপ্পর থেকে খড়্গপুর রেল স্টেশনে উদ্ধার হন খোয়াই জাম্বুরা নিবাসী ওই মহিলা (৪০)। গত ৮ই জুন, ২০২৬ তারিখে রেল পুলিশের সহযোগিতায় তাঁকে সুরক্ষিতভাবে খোয়াইতে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, গত ৫ই জুন, ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ৩টে নাগাদ জাম্বুরা এলাকার বাসিন্দা ওই মহিলা আত্মীয়ের বাড়ি যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে নিখোঁজ হন। মায়ের হদিস না পেয়ে তাঁর সন্তান খোয়াই মহিলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করলে তদন্তে নামেন ওসি মিনা দেববর্মা। পুলিশি অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় এক দালালের খপ্পরে পড়ে ব্যাঙ্গালোরের উদ্দেশ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন ওই মহিলা।
মহিলা থানার ওসি মিনা দেববর্মা কোনোক্রমে নিখোঁজ মহিলার সাথে ফোনে যোগাযোগ করতে সক্ষম হলে ফোনের ওপার থেকে ক্রন্দনরত মহিলা জানান, ব্যাঙ্গালোরে অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীরা তাঁর জিনিসপত্র ও নথিপত্র লুট করে নিয়েছে এবং তাঁকে অন্য কোথাও পাচার করে দেওয়ার গভীর চক্রান্ত চলছে।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওসি মিনা দেববর্মা তৎক্ষণাৎ একটি ‘এস্কেপ ফর্মুলা’ তৈরি করেন। তিনি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলে মহিলাকে মানসিকভাবে শক্ত করে দালালের নজর এড়িয়ে পালানোর ব্লু-প্রিন্ট বুঝিয়ে দেন। দুষ্কৃতীরা যখন ওই মহিলাকে ট্রেনে করে অন্য কোথাও পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছিল, তখন ট্রেনের গতিবিধির ওপর নজর রাখছিল খোয়াই মহিলা থানা। ওসির নির্দেশ অনুযায়ী, ট্রেনটি খড়্গপুর রেল স্টেশনে পৌঁছানো মাত্রই ওই মহিলা ‘বাঁচাও! বাঁচাও!’ বলে চিৎকার শুরু করেন এবং কামরা থেকে প্ল্যাটফর্মে নেমে সরাসরি কর্তব্যরত রেল পুলিশের দিকে দৌড়ে যান।
মহিলার আকস্মিক চিৎকারে দুষ্কৃতীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় এবং রেল পুলিশ তৎপরতার সাথে তাঁকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এরপর খোয়াই মহিলা থানা ও রেল পুলিশের যৌথ সহায়তায় গত ৮ই জুন তাঁকে সুরক্ষিতভাবে খোয়াইয়ে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ও আইনি নিয়মে ভুক্তভোগী মহিলার প্রকৃত নাম গোপন রাখা হলেও, খোয়াই মহিলা থানার ওসি মিনা দেববর্মার এই বিচক্ষণ ও মানবিক ভূমিকা সর্বস্তরে প্রশংসিত হচ্ছে।
