রথযাত্রা উপলক্ষে শান্তিরবাজারে প্রস্তুতি সভা, নিরাপত্তা ও যানবাহন ব্যবস্থাপনায় জোর

বিশ্বেশ্বর মজুমদার, শান্তিরবাজার, ০৬ জুলাই || আসন্ন রথযাত্রা উৎসবকে সামনে রেখে দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমাশাসকের কার্যালয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হয় এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা। সভায় রথযাত্রা কমিটির সদস্য, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৬ই জুলাই অনুষ্ঠিতব্য রথযাত্রা উৎসবকে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করাই ছিল এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসবগুলোর অন্যতম রথযাত্রা। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এদিন ভগবান জগন্নাথ, বলরাম ও শুভদ্রা রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। শান্তিরবাজার মহকুমার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছরের মতো এবারও বড় ও ছোট পরিসরে রথযাত্রার আয়োজন করা হবে।
প্রস্তুতি সভায় রথযাত্রা চলাকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দর্শনার্থীদের সুরক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ, রথের উচ্চতা নির্ধারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িক বিচ্ছিন্ন রাখা-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি, আয়োজকদের করণীয় সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে সভায় শুধুমাত্র বড় আকারের রথযাত্রা আয়োজকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ছোট পরিসরের রথযাত্রা কমিটিগুলিকে আমন্ত্রণ না জানানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করেন উপস্থিত অনেকেই। এ প্রসঙ্গে শান্তিরবাজার পৌর পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ছোট-বড় কোনো ভেদাভেদ থাকে না। তাই সকল রথযাত্রা আয়োজককে একসঙ্গে নিয়ে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া উচিত ছিল।
সভায় উপস্থিত বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন। তিনি বলেন, রথ টানার কাজে হাতি বা অন্য কোনো পশু ব্যবহার করা উচিত নয়। অতীতে পশু দিয়ে রথ টানার সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনার নজির রয়েছে। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে পশুর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে পরিহার করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
সভা শেষে শান্তিরবাজার মহকুমাশাসক তরুণ কান্তি সরকার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও আলোচ্য বিষয়গুলি তুলে ধরেন। এখন দেখার বিষয়, সভায় গৃহীত নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তগুলি রথযাত্রার দিন কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*