সীমান্তে অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ ও পুলিশের যৌথ টহলদারি, মানব পাচারচক্র অধরা থাকায় ক্ষোভ জনমনে

গোপল সিং, খোয়াই, ০৬ জুলাই || রাজ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত গলে ওপার বাংলার নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা নিত্যদিনের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন রাজ্যের কোথাও না কোথাও জাল পাসপোর্ট বা কোনো বৈধ নথিপত্র ছাড়াই ধরা পড়ছে বাংলাদেশি নাগরিকরা। সম্প্রতি খোয়াই সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে একাধিক অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করা হলেও, এই আন্তর্জাতিক মানব পাচার ও অনুপ্রবেশের পেছনে সক্রিয় থাকা মূল ‘দালালচক্র’ আজও অধরা। আর এই দালালদের জালে তুলতে না পারায় সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এখন সাধারণ জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ৫ই জুলাই রবিবার, খোয়াই মহকুমার ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন সীমান্ত সড়কগুলিতে এক ব্যাপক যৌথ টহলদারি ও সীমান্ত কুচকাওয়াজ চালানো হয়। খোয়াইয়ের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ডি. কুড্ডিয়ারাসু-এর নেতৃত্বে এবং ১০৪ নং ব্যাটালিয়ন বিএসএফ-এর জওয়ানদের যৌথ অংশগ্রহণে এই তল্লাশি অভিযান চলে।
এই যৌথ টহলদারির মাধ্যমে খোয়াই মহকুমার অত্যন্ত সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকাগুলি কভার করা হয়, যার মধ্যে ছিল দুর্গানগর, ঘোষপাড়া, পহড়মুড়া, গৌরনগর এবং বেলছড়া। পুলিশ ও বিএসএফের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আজকের এই বিশেষ টহলদারি চলাকালীন সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরণের সন্দেহভাজন গতিবিধি বা অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে সমগ্র অঞ্চলটিকে এখন বিএসএফ ও পুলিশের তীক্ষ্ণ নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে।
সীমান্তে এই কড়া নজরদারি ও নিত্যদিন বাংলাদেশি নাগরিক ধরা পড়ার পরও খোয়াইবাসীর মনে এখন এক মস্ত বড় প্রশ্ন—সীমান্তের নিশ্ছিদ্র ফাঁক গলে কীভাবে ভারতে এই অনুপ্রবেশ ঘটছে? ধৃত বাংলাদেশিদের জেরা করে জানা গেছে, ওপার বাংলা থেকে কেবল ভারতে প্রবেশ করাই নয়, বরং ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে অবৈধভাবে কাজকর্ম করার পর পুনরায় বাংলাদেশ ফিরে যাওয়ার পথেও অনেকে ধরা পড়ছে। দালালচক্রকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েই তারা কাঁটাতারের বেড়া পারাপার করে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, ধৃত বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনগুলিতে এই ভারতীয় দালালদের একাধিক মোবাইল নম্বর ও যোগাযোগের প্রমাণ অনায়াসে পেয়ে যায় পুলিশ ও বিএসএফ। কিন্তু তারপরও আজ অবধি সেই সমস্ত মূল হোতা বা দালালচক্রের কিংপিনদের খাঁচায় পুরতে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বা স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। প্রশাসনের এই রহস্যজনক ‘অক্ষমতা’ বা ঢিলেমি কিসের জন্য, তা নিয়ে এখন সীমান্ত লাগোয়া গ্রামগুলির সাধারণ মানুষের মনে তীব্র সংশয় দানা বাঁধছে। সাধারণ মহলের দাবি, যতক্ষণ না এই দালালচক্রের শিকড় উপড়ে ফেলা যাচ্ছে, ততক্ষণ শুধু যৌথ টহলদারি দিয়ে সীমান্তকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত ও অনুপ্রবেশমুক্ত করা অসম্ভব।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*