আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ জুলাই || রাজ্যের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় উৎসব খয়েরপুরের চতুর্দশ দেবতা মন্দিরে বুধবার থেকে শুরু হলো সাতদিনব্যাপী খার্চি পূজা ও মেলা। এই উপলক্ষে পুরাতন হাভেলির কৃষ্ণমালা মুক্তমঞ্চে আয়োজিত মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, খার্চি পূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি রাজ্যের সর্বজনীন সম্প্রীতি, ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতীক। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই উৎসব সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করে। পাশাপাশি এটি ত্রিপুরার পর্যটন বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, রাজ্য সরকারের লক্ষ্য একদিকে যেমন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে সংরক্ষণ করা, অন্যদিকে উন্নয়নের ধারাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। “এক ত্রিপুরা, শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরা” গড়ে তোলার পাশাপাশি ২০৪৭ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের ‘বিকশিত ভারত’ নির্মাণে রাজ্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধ করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক রতন চক্রবর্তী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, বিধায়িকা স্বপ্না দেববর্মা, পুরাতন আগরতলা পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারপারসন ঝর্ণা রানী দাস, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গীতে, পর্যটন দপ্তরের সচিব ইউ. কে. চাকমাসহ প্রশাসনের বিভিন্ন আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
এবারের খার্চি উৎসবের মূল প্রতিপাদ্য ‘এক পেড় মা কে নাম’। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে মেলায় আগত পুণ্যার্থীদের মধ্যে চারা গাছ বিতরণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উদ্যোগে মোট ২২টি প্রদর্শনী স্টল স্থাপন করা হয়েছে। মেলার মাঠজুড়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীরাও তাঁদের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।
বুধবার সকাল থেকেই চতুর্দশ দেবতা মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি মেলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় উৎসবমুখর হয়ে ওঠে সমগ্র খয়েরপুর এলাকা।
