নয়াদিল্লী, ২৫ জুলাই || গত কয়েকদিন ধরে NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলা বিতর্ক ও রাজনৈতিক চাপের আবহে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুপারিশের ভিত্তিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। নতুন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশীকে।
শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান লেখেন, “গত ১০ দিনের ঘটনাক্রম দেখে আমার মন ভারাক্রান্ত। ভারতীয় যুব শক্তিই দেশের আসল শক্তি। দেশের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা আমার কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।” তিনি আরও দাবি করেন, NEET প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় তিনি কখনও দায় এড়িয়ে যাননি এবং শুরু থেকেই জবাবদিহি করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে কিছু “দেশবিরোধী শক্তি” পরিস্থিতিকে অস্থির করার চেষ্টা করছে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রকের অন্তর্বর্তী দায়িত্ব কার হাতে তুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। পরে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পরামর্শের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ জোশীর নাম চূড়ান্ত করা হয়।
বর্তমানে প্রহ্লাদ জোশী কেন্দ্রীয় সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবণ্টন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি আগের মন্ত্রকগুলির কাজও সামলাবেন। চারবারের সাংসদ প্রহ্লাদ জোশী দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত। ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিজেপির কর্নাটক রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব সামলেছেন। দল ও সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থাভাজন হিসেবেই তাঁর পরিচিতি রয়েছে।
এদিকে, NEET প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে বিরোধী দলগুলির লাগাতার আক্রমণ, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নতুন পূর্ণাঙ্গ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহল ও শিক্ষাক্ষেত্রের।
