গোপাল সিং, খোয়াই, ২৪ সেপ্টেম্বর || এডিসি ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন ২০২৬-এর নির্বাচনী রণদুন্দুভি বাজতেই দক্ষিণ ত্রিপুরার সীমান্তবর্তী ধনপুর কেন্দ্রে সৃষ্টি হয়েছে অভূতপূর্ব উত্তেজনার। বুধবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পুরো এলাকা জুড়ে একক প্রভাবে রাজত্ব করলেন রাজ্যের সর্বজনপ্রিয় নেত্রী, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক। নির্বাচনী কূটনীতি, কৌশলগত বৈঠক এবং খেটে খাওয়া মানুষের সাথে অকৃত্রিম আত্মিক যোগাযোগের মাধ্যমে ধনপুরকে বিজয়ের লড়াইয়ে বহুদূর এগিয়ে দিয়েছেন সবার পরিচিত ‘দিদি’।
দিনের শুরুতেই থলিবাড়িতে এক অনন্য দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। এলাকার সর্বস্তরের মা-বোন ও ভাইদের উষ্ণ সংবর্ধনা নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিমা ভৌমিক সরাসরি বসে পড়েন থলিবাড়ির অটোরিকশা চালক ভাইদের সাথে। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই তাঁদের দৈনন্দিন জীবনসংগ্রাম ও নানা দাবির কথা শোনেন এবং সবসময় ছায়ার মতো পাশে থাকার আশ্বাস দেন। একইভাবে দশরথ পাড়ায় ‘দশরথ বাড়ি অটো ড্রাইভার্স সিন্ডিকেট’-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মেহনতি মানুষের স্বার্থসুরক্ষা ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তিনি।
কাইচ্চাখোলা, দমদমা এবং চান্দুলের পৃথক পথসভা ও রাজনৈতিক কর্মসূচিগুলো নিমেষেই গণউৎসবে পরিণত হয়। সীমান্ত অঞ্চলের মা-বোনেদের অভাবনীয় উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাস প্রমাণ করে দিয়েছে স্থানীয় নারীশক্তির মাঝে প্রতিমা ভৌমিকের গ্রহণযোগ্যতা ঠিক কতটা গভীরে। চান্দুলে সাধারণ ভোটারদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বিগত বছরগুলোতে বিজেপির হাত ধরে বদলে যাওয়া সমৃদ্ধ গ্রামীণ ত্রিপুরার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। দিনের শেষ লগ্নে দক্ষিণ তৈবানদালে নারীশক্তির বিশালাকার জনসভায় তাঁর বক্তব্য কর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে।
জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে এক আবেগঘন বক্তৃতায় প্রতিমা ভৌমিক আহ্বান জানিয়ে বলেন, “পাহাড় ও সমতলের মধ্যকার সম্প্রীতি রক্ষা করে ত্রিপুরার প্রতিটি গ্রামকে উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যাওয়াই আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচনে ধর্ম-বর্ণ ও জাতি-জনজাতি নির্বিশেষে সবাইকে এককাট্টা হয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী করতে হবে।” ভোটের মাত্র কয়েক দিন আগে ধনপুরের প্রতিটি প্রান্তে প্রতিমা ভৌমিকের এই নিবিড় জনসংযোগ কেবল একটি সাধারণ নির্বাচনী প্রচারণা হয়ে থাকেনি; এটি পরিণত হয়েছে সাধারণ মানুষের অধিকার, বিশ্বাস ও একতাবদ্ধ উন্নয়নের এক শক্তিশালী গণআন্দোলনে।
