বিকেআই জুডো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে কমনওয়েলথের স্বর্ণমঞ্চে অস্মিতা, কোচ বীনা দেবনাথের হাত ধরেই শুরু বিশ্বজয়ীর পথচলা

বলরাম দেবনাথ, সাব্রুম, ০১ আগস্ট || কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণপদক জিতে দেশের গৌরব উজ্জ্বল করেছেন ত্রিপুরার কৃতী কন্যা অস্মিতা দে। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ার বিকেআই জুডো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, যেখানে প্রশিক্ষক বীনা দেবনাথের স্নেহ, যত্ন ও কঠোর অনুশীলনের মধ্য দিয়েই অস্মিতার জুডো জীবনের সূচনা হয়েছিল।
প্রশিক্ষক বীনা দেবনাথ জানান, ছোটবেলা থেকেই অস্মিতার মধ্যে অসাধারণ প্রতিভার ঝলক তিনি দেখতে পেয়েছিলেন। সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে দীর্ঘদিন নিজের বাড়িতেই রেখে নিবিড়ভাবে প্রশিক্ষণ দেন তিনি। তবে প্রতিভার পূর্ণ বিকাশের জন্য আরও উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও বড় পরিসরের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে তিনি অস্মিতার বাবার সঙ্গে আলোচনা করেন এবং তাঁকে নিয়ে আগরতলায় চলে আসেন।
আগরতলায় এসে বীনা দেবনাথ বাধারঘাটের স্পোর্টস অফিসার মানিক দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অস্মিতার দক্ষতা ও প্রতিভা দেখে তিনিও মুগ্ধ হন। তাঁর আন্তরিক উদ্যোগেই অস্মিতার ভর্তি হয় বাধারঘাট স্পোর্টিং স্কুলে। এরপর জাতীয় স্তরের একের পর এক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের পথে এগিয়ে যেতে থাকে অস্মিতা।
কোচ বীনা দেবনাথ জানান, কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে যাওয়ার আগেও অস্মিতার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। নিজের প্রিয় ছাত্রীর আত্মবিশ্বাস ও প্রস্তুতি দেখে তিনি আশাবাদী ছিলেন। সেই বিশ্বাসই আজ সত্যি হয়েছে। কমনওয়েলথের মঞ্চে স্বর্ণপদক জিতে অস্মিতা শুধু দেশের মুখই উজ্জ্বল করেননি, গর্বিত করেছেন তাঁর প্রথম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিকেআই জুডো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং গোটা বিলোনিয়াকে।
অস্মিতার এই ঐতিহাসিক সাফল্যে বর্তমানে বিকেআই জুডো প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে। কোচ বীনা দেবনাথের পাশাপাশি কেন্দ্রের খুদে খেলোয়াড়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নতুন উদ্দীপনা। তাঁদের বিশ্বাস, অস্মিতার এই সাফল্য আগামী দিনে আরও অনেক প্রতিভাবান ছেলে-মেয়েকে জুডোর প্রতি আকৃষ্ট করবে এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ত্রিপুরার নাম আরও উজ্জ্বল করবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*