গবাদি পশু ও বানরের অবাধ উৎপাতে অতিষ্ঠ খোয়াইবাসী, পশু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ার দাবিতে সরব জনতা

গোপাল সিং, খোয়াই, ০৭ আগস্ট || খোয়াই শহরে অবাধে বিচরণকারী গবাদি পশু এবং বানরের উৎপাত দিন দিন অসহনীয় হয়ে উঠেছে। রাস্তাঘাট, বাজার, আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে কৃষিজমি—সব জায়গাতেই এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ফসল নষ্ট, বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতি, পথচারীদের নিরাপত্তাহীনতা এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের জেরে প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ খোয়াইবাসী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন রাস্তায় মালিকানাধীন গবাদি পশু সারাদিন অবাধে ঘুরে বেড়ায়। এর ফলে একদিকে যেমন যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে রাস্তার কুকুরের আক্রমণের শিকার হচ্ছে এসব পশু। বাজার ও বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা প্লাস্টিক ও অন্যান্য বিষাক্ত আবর্জনা খেয়ে গবাদি পশুগুলির স্বাস্থ্যও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সচেতন মহলের প্রশ্ন, এই অবস্থায় ওই পশুগুলির দুধ কতটা নিরাপদ, যখন শিশু থেকে বৃদ্ধ—সকলেই সেই দুধ পান করছেন? বিষয়টি জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে সরাসরি জড়িত বলে মত প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা।
খোয়াই পুর পরিষদ এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গবাদি পশুর পাল শহরের প্রধান সড়ক ও জনবহুল এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এতে পথচারীদের চলাচলে যেমন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তেমনি গৃহস্থের ফল, ফুল, শাকসবজি ও কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব পশু লাওয়ারিশ নয়; নির্দিষ্ট মালিক রয়েছে। দিনের বেলায় পশুগুলিকে অবাধে ছেড়ে রাখা হলেও দুধ দোয়ানোর সময় মালিকরা নিয়মিত হাজির হন। ক্ষতির প্রতিবাদ করলে উল্টে হুমকি ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে, খোয়াই শহরে বানরের উৎপাতও চরম আকার ধারণ করেছে। মহারাজগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে শুরু হওয়া বানরের দল বর্তমানে ড. এইচ. এস. রায় মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউশন (খোয়াই গার্লস স্কুল)-এর দ্বিতল ভবনে স্থায়ী আস্তানা গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ। সেখান থেকে দল বেঁধে বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে রান্না করা খাবার, চাল-ডাল নষ্ট করা, ফলমূল নিয়ে পালিয়ে যাওয়া, টিনের ছাউনি ও বৈদ্যুতিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং ফল-ফুলের বাগান ধ্বংস করা নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, প্রাণী জন্ম নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা, ২০২৩ অনুসরণ করে রাজ্য সরকার পথকুকুর ও ভবঘুরে প্রাণীদের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের উদ্যোগে আগরতলার হাপানিয়ায় প্রাণী জন্ম নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং আর. কে. নগরে পশু আশ্রয়কেন্দ্র চালু হয়েছে। পাশাপাশি, সুপ্রিম কোর্টও জাতীয় ও রাজ্য সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থেকে ভবঘুরে গবাদি পশু সরিয়ে নির্দিষ্ট আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে খোয়াইবাসীর প্রশ্ন, এই ধরনের উদ্যোগ কি শুধুমাত্র রাজধানীকেন্দ্রিক থাকবে? খোয়াই মহকুমায় কবে গড়ে উঠবে একটি পশু আশ্রয়কেন্দ্র? স্থানীয়দের দাবি, অবিলম্বে অবাধে বিচরণকারী গবাদি পশু ও বানর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে প্রয়োজনে হাপানিয়া বা আর. কে. নগরের আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে খোয়াইতেও স্থায়ী পশু আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তুলে জনজীবন, কৃষি এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নাগরিকরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*