খোয়াইয়েও লাগামহীন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম: প্রশাসন ও খাদ্য দপ্তরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন, নাভিশ্বাস সাধারণ মানুষের

গোপাল সিং, খোয়াই, ১৩ আগস্ট || খোয়াই শহর ও সংলগ্ন এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ। জাতীয় সড়কের বেহাল দশাকে পরিবহণ ব্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখিয়ে চাল, ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পাশাপাশি জীবনদায়ী ওষুধের দামও অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ ও নিম্নবিত্ত মানুষের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
খোয়াই শহরের মূল সুভাষপার্ক বাজারে প্যাকেটজাত চালের দাম বস্তাপ্রতি প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ। ব্যবসায়ীদের একাংশের দাবি, আগামী মাসে দাম আরও বাড়তে পারে। বাজারে ‘আরাম’ ব্র্যান্ডের সবুজ প্যাকেটের চালের দাম ১৩৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫৮০ টাকা এবং লাল প্যাকেটের দাম ১১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪৭০ টাকা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ভোজ্যতেলের দাম লিটারপ্রতি বেড়ে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে পৌঁছেছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি প্রায় ৬০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ টাকা কেজি। শহরের বাইরের বাজারগুলিতে একই পণ্যের ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি আরও ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মূল্যবৃদ্ধির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। তাঁদের অভিযোগ, বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। খোয়াই জেলা ও মহকুমা প্রশাসনের পাশাপাশি খাদ্য ও জনসংভরণ দপ্তরের আরও সক্রিয় ভূমিকার দাবি উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবিরও। সিপিআই(এম) ও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের বাজার নিয়ন্ত্রণের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা সুশান্ত চক্রবর্তী বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী বিরোধীদের বক্তব্যকে ‘ঘোলা জলে মাছ ধরা’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
সব মিলিয়ে খোয়াইয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। বাজারে সঠিক মূল্যতালিকা কার্যকর করা, নিয়মিত পরিদর্শন এবং অতিরিক্ত দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*