কাঠ কাটা নিয়ে বনকর্মী ও গ্রামবাসীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ফরেস্টারের ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক অবরোধে এলাকা উত্তপ্ত

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৬ সেপ্টেম্বর || আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে জঙ্গল থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে ফরেস্ট কর্মী ও স্থানীয় উপজাতি গ্রামবাসীদের সংঘাত ঘিরে রণক্ষেত্রের রূপ নিল আসাম-আগরতলা জাতীয় সড়ক সংলগ্ন আমবাসার কাঁঠালবাড়ি নকলপাড়া এলাকা। সংঘর্ষের ঘটনায় ৩ রাউন্ড গুলি বর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বন দপ্তরের কর্মীদের বিরুদ্ধে। ঘটনায় চিরঞ্জিত দেববর্মা নামে এক ফরেস্টার আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি কুলাই জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, আমবাসা কাঁঠালবাড়ি এলাকার নকলপাড়ায় স্থানীয় কিছু উপজাতি গ্রামবাসী জঙ্গল থেকে নির্বিচারে গাছ কাটছিল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ধাওয়া করেন আমবাসা ফরেস্টের ডিএফও ও বনকর্মীরা। ফরেস্টের দল গাছ কাটতে বাধা দিলে ঘটনাস্থলে ফরেস্টার ও গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক ও বচসার সৃষ্টি হয়। অভিযোগ, বচসা চরম আকার ধারণ করলে বনকর্মীদের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ৩ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। ফরেস্টারের গুলি চালানোর খবর ছড়িয়ে পড়তেই চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা এবং শুরু হয় দু’পক্ষের সংঘর্ষ।
সংঘর্ষে চিরঞ্জিত দেববর্মা নামে এক বনকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে বিএফও সহ অন্যান্য বনকর্মীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেন। এর প্রতিবাদে এবং গুলির ঘটনার বিচার চেয়ে ক্ষুব্ধ উপজাতি গ্রামবাসী নকলপাড়া এলাকায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে বসে পড়েন। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে আমবাসা মহকুমা পুলিশ আধিকারিক সহ আমবাসা থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে অবরোধকারীদের সাথে আলোচনায় বসে। কিন্তু অবরোধকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকেন। অবরোধকারী গ্রামবাসীরা স্পষ্ট ভাষায় প্রশাসনকে জানান, এলাকায় চরম কাজের সংকট ও খাদ্যাভাব দেখা দিয়েছে। পেটের দায়ে সংসার চালাতে বাধ্য হয়েই তারা জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বিক্রি করছেন। তাদের বক্তব্য, “সরকার হয় আমাদের ঘরে ঘরে একটি করে চাকরি দিক, না হয় আমাদের কাজ করতে বাধা দেওয়া চলবে না।” ঘটনার চরম উত্তেজনার মাঝেও একাধিকবার যোগাযোগ করা সত্ত্বেও আমবাসা মহকুমার এসডিএফও কিংবা বন দপ্তরের দায়িত্বশীল কোনো শীর্ষ আধিকারিক ঘটনাস্থলে যাননি বলে অভিযোগ। প্রশাসনিক আধিকারিকদের এই অনুপস্থিতির কারণে ক্ষোভ আরও বাড়ে। এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের আগে পাহাড়ি এলাকায় কাজ ও খাদ্যের দাবিরে নিয়ে এমন সহিংস সংঘর্ষ ও রাস্তা অবরোধের ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে এই ঘটনা কোন্ দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাখছে সমগ্র ত্রিপুরা।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*