‘মদের বাজেট কমান’—পূজা উদ্যোক্তাদের পরামর্শ, খোয়াইয়ে দুর্গোৎসব ঘিরে পুলিশের কড়া নজরদারি, চাঁদার জুলুম বন্ধে হুঁশিয়ারি

গোপাল সিং, খোয়াই, ০২ অক্টোবর || শারদীয়া দুর্গোৎসবের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। মহালয়ার পূণ্যলগ্নে মায়ের আগমনী সুরে যখন উৎসবের আবহ তৈরি হতে চলেছে, ঠিক তার আগেই খোয়াইয়ে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে তৎপর হয়ে উঠেছে পুলিশ প্রশাসন। পূজা চলাকালীন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং চাঁদার জুলুম বন্ধ করার লক্ষ্যে খোয়াই থানায় অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয় বৈঠক।
খোয়াই থানার ওসি প্রজিত মালাকারের বিশেষ উদ্যোগে থানার অধীনস্থ বিভিন্ন পূজা কমিটি, ক্লাব কর্মকর্তা ও পূজা উদ্যোক্তাদের নিয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায়সহ পুলিশ প্রশাসনের অন্যান্য আধিকারিকরা।
বৈঠকে দুর্গোৎসব চলাকালীন নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, মণ্ডপে পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থা, জরুরি অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ দপ্তরের নিয়ম মেনে বৈদ্যুতিক সংযোগ নেওয়া এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশ দেওয়া হয়।
তবে বৈঠকে বিশেষ গুরুত্ব পায় জোরপূর্বক চাঁদা আদায় বা চাঁদার জুলুম বন্ধের বিষয়টি। উৎসবের নামে কোনো সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী কিংবা গাড়িচালকের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে বা জোর করে চাঁদা আদায় করা যাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়। কোনো ক্লাব বা পূজা কমিটির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয় পুলিশের তরফে।
অন্যদিকে, বৈঠকে পূজা উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে ‘মদের বাজেট কমানোর’ পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য, দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন অপ্রীতিকর ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায় মাদক ও মদ্যপান। ফলে উৎসবের দিনগুলিতে মাদক সেবন ও বিক্রির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের মতে, পূজার আনন্দ যেন কোনোভাবেই মাদকাসক্তি বা মদ্যপানের কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হবে। খোয়াইয়ের বিভিন্ন এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলেও প্রশাসনের তরফে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে খোয়াই মহকুমা পুলিশ আধিকারিক দেবপ্রসাদ রায় জানান, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে খোয়াইয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি চালাবে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং পূজা মণ্ডপগুলিতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, কোনো ক্লাব বা পূজা কমিটির বিরুদ্ধে চাঁদার জুলুম, দর্শনার্থীদের হয়রানি কিংবা আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
পুলিশ প্রশাসনের এই তৎপরতায় খোয়াইয়ে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালনের আশা করছেন সাধারণ মানুষ। এখন দেখার, প্রশাসনের এই কড়া বার্তার পর উৎসবের দিনগুলিতে খোয়াইয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*