টেট উত্তীর্ণদের দ্রুত নিয়োগ সহ সাত দফা দাবিতে বাঙালী ছাত্র-যুব সমাজের বিক্ষোভ

আপডেট প্রতিনিধি, আগরতলা, ০৪ অক্টোবর ||  রাজ্যের বেকারত্ব, নেশার বিস্তার এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে শূন্যপদ পূরণের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল বাঙালী ছাত্র-যুব সমাজ। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর শিবনগরস্থিত সংগঠনের রাজ্য কার্যালয়ের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন বাঙালী ছাত্র-যুব সমাজের সচিব বিপ্লব দাস। এছাড়াও সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতী বিএড ও ডিএলএড ডিগ্রি অর্জন করে টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও তাঁদের নিয়োগ করা হচ্ছে না। তাঁদের দাবি, টেট উত্তীর্ণদের দ্রুত নিয়োগের জন্য একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানানো হলেও এখনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে বছরে ৫০ হাজার চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরও সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কর্মসংস্থান হয়নি। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পড়ে থাকার পাশাপাশি অনেক চাকরিপ্রার্থী বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পার করে ফেলছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।
শিক্ষাক্ষেত্রেও সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তারা বলেন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভাবে বহু বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠন-পাঠন ব্যাহত হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ছাত্রছাত্রীদের রাজপথে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিন রাজ্যে নেশার বিস্তার নিয়েও সরব হয় বাঙালী ছাত্র-যুব সমাজ। তাঁদের অভিযোগ, ত্রিপুরায় নেশা সামগ্রীর প্রবেশ ও কারবার বেড়ে চলেছে। বিভিন্ন সময়ে বিপুল পরিমাণ নেশা সামগ্রী আটক হলেও নেশা কারবারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির নজির যথেষ্ট নেই বলে দাবি করেন তাঁরা। নেশা প্রতিরোধে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে মোট সাত দফা দাবি জানানো হয়।
দাবিগুলি হল—

১. অবিলম্বে সমস্ত টেট উত্তীর্ণ বেকারদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে।

২. আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে পাস প্রদানে আইনি কঠোরতা অবলম্বন করতে হবে।

৩. নেশা কারবারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. দুর্গোৎসব থেকে কালীপূজা পর্যন্ত প্রকাশ্যে মদসহ সব ধরনের নেশাজাতীয় সামগ্রীর বিপণন ও বিক্রি বন্ধ করতে হবে।

৫. পূজার আগে অধিক সংখ্যক রেগার কাজের ব্যবস্থা করতে হবে।

৬. পূজার আগে শহরের রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামত করতে হবে।

৭. রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরের শূন্যপদ পূরণের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় নিয়োগ-নীতি গ্রহণ করতে হবে।

দাবিগুলি দ্রুত পূরণ করা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথে সংগঠন যেতে পারে বলেও এদিনের কর্মসূচি থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*