গোপাল সিং, খোয়াই, ২১ অক্টোবর || উৎসবের দিনগুলোতে যখন চারপাশ আলোর রোশনাই, ঢাকের বাদ্য আর স্বজনদের হাসিমুখের কোলাহলে মুখরিত, ঠিক তখনই এক চিলতে শান্তির ছোঁয়া পৌঁছে গেল খোয়াইয়ের নিঃসঙ্গ প্রবীণদের জীবনে। মানবিক মূল্যবোধ আর দায়িত্ববোধের এক নজিরবিহীন মেলবন্ধন ঘটিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করল খোয়াই জেলা পুলিশ প্রশাসন। দুর্গাপূজার আনন্দের মূলস্রোত থেকে বহু দূরে থাকা বৃদ্ধাশ্রমের আশ্রিত প্রবীণদের হাত ধরে মণ্ডপে মণ্ডপে পুজো দেখানোর এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিল তারা।
শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দে খোয়াইয়ের স্বজনহীন বৃদ্ধাশ্রমের প্রবীণদের শামিল করতে এদিন এগিয়ে আসেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা। খোয়াইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাস্টিন জোসেফ, এসডিপিও দেবপ্রসাদ রায়, খোয়াই থানার ওসি প্রজিত মালাকার এবং মহিলা থানার ওসি মিনা দেববর্মা, সুভাষপার্ক পুলিশ ফাঁড়ির ওসি রঞ্জিত সরকার সহ পুলিশের একটি বিশেষ দল স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আশ্রিতদের পুজো পরিক্রমায় নিয়ে যান। জীবনের শেষ অপরাহ্ণে এসে এমন ভালোবাসার ছোঁয়া পাবেন, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি এই বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দারা।
শারদীয় উৎসবের রঙিন দিনে গাড়ি করে ঘুরে মণ্ডপের ঠাকুর দেখা, আলোর সাজ আর ভালোবাসাপূর্ণ পরিচর্যায় চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনেক প্রবীণই। পুলিশের এই সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণে মুহূর্তের জন্য হলেও হারিয়ে যায় তাঁদের জীবনের একাঙ্কিতা ও স্বজন হারানোর যন্ত্রণা।
খোয়াইয়ের সাধারণ জনগণের মতে, সমাজ ও প্রশাসনিক পরিসরে এমন উদ্যোগ কেবল বিরলই নয়, বরং নজিরবিহীন। এর আগে খোয়াইয়ের বুকে প্রবীণদের এভাবে আগলে রেখে উৎসবের অংশীদার করার মতো ঘটনা আর দেখা যায়নি। সমাজের প্রতি পুলিশের এই দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ সর্বস্তরের মানুষের হৃদয়ে গভীর প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি সমাজের অবহেলিত ও একাকী মানুষগুলোর মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোই যে উৎসবের আসল সার্থকতা—খোয়াই পুলিশের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ যেন আবারও তা প্রমাণ করে দিল।
