আপডেট প্রতিনিধি, আরব, ২৯ অক্টোবর || মাঝ আকাশে ভয়াবহ বিপদের মুখেও হার মানেননি ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছর। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ১৮০ জন যাত্রীর প্রাণ রক্ষায় তাঁর সাহসিকতার স্বীকৃতি দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। তাঁকে ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ টু’ সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ বিমানটি দুবাই থেকে ইজরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। উড়ানের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর, বিমানটি যখন ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায়, তখন ককপিটে সহ-পাইলটের বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আক্রমণের অভিযোগ ওঠে। এমনকি বিমানটিকে বিপজ্জনক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
আক্রমণে গুরুতর আহত হন স্মিত। মাথা ও পেটে আঘাত লাগলেও তিনি হাল ছাড়েননি। রক্তাক্ত অবস্থাতেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি। এক পর্যায়ে ককপিটের দরজা খুলে গেলে কয়েক জন যাত্রী ভিতরে প্রবেশ করে অভিযুক্ত সহ-পাইলটকে আটক করেন।
এরই মধ্যে বিমানটির উচ্চতা দ্রুত কমতে শুরু করে। মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে ৩৪ হাজার ফুট থেকে প্রায় ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে বিমানটি। চরম আতঙ্কের সেই মুহূর্তে যাত্রীদের মধ্যে থাকা দুই পাইলটের সহায়তায় বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব হয়। আহত স্মিতকে প্রথমে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে দুবাইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
এই ঘটনার পর থেকেই স্মিতের সাহসিকতা আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন। এবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্মানগুলির অন্যতম ‘ফার্স্ট ক্লাস অর্ডার অফ জায়েদ টু’ প্রদান করে তাঁর সাহসিকতাকে স্বীকৃতি দেওয়া হল। বিপদের মুখে দায়িত্ব ও সাহসিকতার যে নজির তিনি রেখেছেন, তা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়িয়েছে।
